
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের র্যাগিং করার ঘটনায় দুই বিভাগের ২০ জন শিক্ষার্থীকে ৬ লাখ ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। জরিমানার টাকা পরিশোধ না করা পর্যন্ত তাঁরা ক্লাস-পরীক্ষাসহ কোনো একাডেমিক কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন না।
আজ বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এ বি এম আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত দুটি অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী শৃঙ্খলা অধ্যাদেশ ২০১৮–এর ৩ (২) অনুযায়ী ওই শিক্ষার্থীদের এ শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত ২০ জুলাই রাতে শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক হলের পাশে (মনপুরা এলাকায়) পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের (৫৫তম ব্যাচ) শিক্ষার্থীদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করার পাশাপাশি কান ধরে ওঠবস করানোর অভিযোগ ওঠে একই বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের (৫৪তম ব্যাচ) কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের আটজন শিক্ষার্থীকে মোট ৩ লাখ ৬৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
দণ্ড পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে জাহিদ হাসান, ফজলে হাসান (ফাহাদ), সৈয়দ সাকিব আহমেদ (রাতুল) ও আল-আমিন হোসাইনকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া মাহমুদুল আমিন (সিয়াম) ও মোস্তাফিজুর রহমানকে (মিজু) ৪৫ হাজার টাকা করে এবং ফয়সাল আহমেদকে ৪০ হাজার টাকা ও মাহমুদুল হাসান খানকে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অন্যদিকে গত ৩ জুলাই রাতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে ‘ম্যানার’ শেখানোর নামে ইতিহাস বিভাগের ৫৫তম ব্যাচের ১৩ জন শিক্ষার্থীকে র্যাগিংয়ের অভিযোগ ওঠে একই বিভাগের ৫৪তম ব্যাচের ১২ জন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। তাঁদের মোট আড়াই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
তাঁদের মধ্যে মো. আবু আবতাহীকে (অনিক) ৩০ হাজার টাকা এবং নাঈম উদ্দিন মজুমদার, মো. মাহফুজুর রহমান, আবদুল্লাহ মাহদী, শুভাশীষ রায়, মো. রায়হান খান, মো. নাঈমুল হাসান, মো. ইসফাক হাদী, নাঈম আহমেদ, কার্তিক চন্দ্র রায়, কাজী শাহ জামশেদ আলম ও সাইফুল্লাহ মানসুর আনানকে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এ বি এম আজিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, র্যাগিংয়ের অভিযোগ ওঠার পর প্রথমে শৃঙ্খলা বোর্ড বিষয়টি তদন্ত করে শাস্তির সুপারিশ করে। পরে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ওই সুপারিশ চূড়ান্তভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।