অন্য খবর

সবজি চাষে ফিরেছে সুদিন

নিজেদের জমি ছিল না। অন্যের জমি বন্ধক নিয়ে তাঁরা ২০০৪ সালে নানা জাতের সবজি চাষ শুরু করেন। প্রথম বছরেই তাঁরা লাভবান হন।

কৃষক মো. মাইনউদ্দিন-রেশমা দম্পতি খেত থেকে টমেটো সংগ্রহ করছেন। সম্প্রতি মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার রমজানপুর ইউনয়নের উত্তর রমজানপুর এলাকায়
ছবি: প্রখম আলো

১৯ বছর আগের কথা। নবম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় বিয়ে হয় রেশমার। স্বামী মো. মাইনউদ্দিন ব্যাপারী অল্প জমিতে চাষাবাদ করে যা রোজগার করতেন, তা দিয়ে ‘দিন আনি, দিন খাই’ অবস্থা। বাড়িতে ছিল ছোট একটি টিনের ঘর। নিজের জমি ছিল না বললেই চলে। এখন তাঁদের রয়েছে তিনতলা পাকা ভবন। জমি আছে চার বিঘা। সব খরচ বাদ দিয়ে মাসে আয় লক্ষাধিক টাকা। অনেক পরিশ্রম, অধ্যবসায় এবং অবিরাম কঠোর চেষ্টার ফলে তাঁদের অভাবের সংসারে সচ্ছলতা এসেছে।  

সফল এই কৃষক দম্পতির বাড়ি মাদারীপুর জেলার কালকিনি উপজেলার রমজানপুর ইউনয়নের উত্তর রমজানপুর এলাকায়। তাঁদের দুই সন্তানের মধ্যে ছেলে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেবে, মেয়ে মাইমুনা জুঁই অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী।

২০০৪ সালে বিয়ের কয়েক মাস পর এক বান্ধবির সঙ্গে মেহেরপুর জেলায় বেড়াতে যান রেশমা। সেখানে মাঠে নারী–পুরুষকে একসঙ্গে কাজ করতে দেখে চোখ আটকে যায় তাঁর। সিদ্ধান্ত নেন, স্বামীর সঙ্গে খেতে ফসল উৎপাদনের কাজে নেমে পড়বেন।

এতে তাঁর সংসারের অভাব দূর হবে। এরপর বিষয়টি নিয়ে স্বামীর সঙ্গে কথা বলেন তিনি। স্বামীও তাঁর প্রস্তাবে রাজি হয়ে যান। নিজেদের পর্যাপ্ত জমি না থাকায় অন্যের জমি বর্গা নিয়ে চাষাবাদ শুরু করেন রেশমা-মাইনউদ্দন দম্পতি। জমিতে নানা জাতের ফসল উৎপাদন শুরু করেন। 

কীভাবে শুরু করলেন জানতে চাইলে রেশমা বলেন, আধুনিক পদ্ধতিতে শাকসবজি চাষ করার পরিকল্পনা ছিল তাঁর। কিন্তু নিজেদের জমি না থাকায় কিছুটা সমস্যা দেখা দেয়। তাই প্রথমে এক প্রতিবেশীর কাছ থেকে পাঁচ শতাংশ জমি বর্গা নিয়ে চিচিঙ্গা চাষ শুরু করেন। সেখানে ২২ হাজার টাকা খরচ হয়। ফসল তোলার পর সব খরচ মিটিয়ে লাভ থাকে ৩৫ হাজার টাকা। এরপর এক বিঘা জমি বর্গা নেন তাঁরা। সেখানে ঢ্যাঁড়স, চিচিঙ্গা ও দেশি জাতের করলা চাষ করে বাম্পার ফলন পান।  

রাতদিন খেতে কাজ করে ঈর্ষণীয় সাফল্য পেয়েছেন রেশমা-মাইনউদ্দিন দম্পতি। নানা সমস্যা থাকার পরও কৃষিকাজ করে ভাগ্য বদলে গেছে তাঁদের। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে রেশমা–মাইনউদ্দিন দম্পতি তিন ফসলি চার বিঘা জমিতে টমোটো, দুই বিঘা জমিতে লাউ, দুই বিঘা জমিতে ফুলকপি, এক বিঘা জমিতে বাঁধাকপি, দেড় বিঘা জমিতে ঢ্যাঁড়স, এক বিঘা জমিতে তরমুজ এবং এক বিঘা জমিতে চিচিঙ্গা, বেগুন এবং নানা জাতের সবজি ও মৌসুমি ফল চাষ করেন। এ ছাড়া তাঁদের দুটি মাছের ঘের রয়েছে। তবে এই ১১ বিঘা জমির মধ্যে ৪ বিঘা জমির মালিক রেশমা ও তাঁর স্বামী। বাকি ৭ বিঘা জমি বর্গা নেওয়া।

১১ বিঘা জমির মধ্যে গরুর খামার। খামারে গরু নেই। তবে এর চারপাশের জমিজুড়ে ফসল ফলিয়েছেন এই দম্পতি। খামারের চারপাশে বালুমাটি থাকায় সেখানে তরমুজ ও বাঙ্গি চাষ করেছেন। 

কালকিনি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিল্টন বিশ্বাস প্রথম আলোকে বলেন, ‘এই দম্পতি প্রশিক্ষিত সবজিচাষি ও উদ্যোক্তা। তাঁদের সব ধরনের সহায়তা আমরা দিই। এই দম্পতির দেখাদেখি আশপাশের কৃষকেরাও সমৃদ্ধ হচ্ছেন।’