চাকরি ছেড়ে ফল চাষে স্বাবলম্বী ছানোয়ার, পেলেন বঙ্গবন্ধু কৃষি পুরস্কার

বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদক হাতে ছানোয়ার হোসেন
ছবি: প্রথম আলো

চাকরি ছেড়ে গ্রামে ফিরে ফল চাষ শুরু করেন ছানোয়ার হোসেন। কয়েক বছরের মধ্যে বাণিজ্যিক খামার গড়ে ওঠে। এভাবে বিভিন্ন ধরনের ফল চাষ করে স্বাবলম্বী হয়ে ওঠেন। তাঁকে দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে ফল চাষ শুরু করেন এলাকার অনেকে। তাঁরাও লাভবান হচ্ছেন।

এ সফলতা ছানোয়ার হোসেনকে এনে দিয়েছে বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার–১৪২৬। বাণিজ্যিকভিত্তিক খামার স্থাপনের মাধ্যমে কৃষি উন্নয়নে অবদান রাখায় এ পুরস্কার পেয়েছেন তিনি।

ফল চাষের আয় থেকে ছানোয়ার হোসেন নিজ গ্রামে ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘মহিষমারা কলেজ’। এ কলেজের জন্য জমিও দান করেছেন। এ বছর কলেজটি এমপিওভুক্ত হয়েছে।

ছানোয়ার হোসেন টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার মহিষমারা গ্রামের মো. জামাল হোসেনের ছেলে। গতকাল বুধবার ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাকের হাত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রোঞ্জপদক গ্রহণ করেন তিনি।

ছানোয়ার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ১৯৯২ সালে স্নাতক পাস করার পর সিলেটের একটি স্কুলে শিক্ষকতা পেশায় যোগ দেন। পাঁচ বছর শিক্ষকতা করার পর চলে আসেন নিজ গ্রামে। পৈতৃক জমিতে আগে থেকে আনারস চাষ করা হতো। বাড়িতে ফিরে আনারস চাষ দিয়ে কৃষিকাজে যুক্ত হন। এরপর একে একে মাল্টা, ড্রাগন, কলা, পেয়ারা ও কফি চাষ শুরু করেন।

বর্তমানে পাঁচ একর জমিতে আনারস, চার একর জমিতে মাল্টা, দুই একর করে জমিতে কলা, পেয়ারা ও ড্রাগন, ৫০ শতাংশ জমিতে কফি এবং তিন একর জমিতে ধান চাষ করছেন ছানোয়ার। তিনি বলেন, নিজের পৈতৃক জমি ও অন্যের জমি ভাড়া নিয়ে এসব ফলের চাষ করছেন। এতে ভালো লাভ হচ্ছে। কৃষিকাজ করে ভালো আছেন। নিজে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন ও অনেক মানুষের কর্মসংস্থান করতে পেরেছেন, এটাই বড় প্রাপ্তি।

এলাকার মানুষের প্রশংসা পাচ্ছেন ছানোয়ার হোসেন। মধুপুর শহীদ স্মৃতি উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ বজলুর রশিদ খান প্রথম আলোকে বলেন, ছানোয়ার হোসেন একজন আদর্শ কৃষক। ফল চাষে তাঁর সফলতা দেখে অনেকে তাঁকে অনুসরণ করেছেন। তিনি বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার পাওয়ায় এলাকার মানুষ আনন্দিত।

মধুপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আল মামুন রাসেল বলেন, কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে ছানোয়ার হোসেনকে সব সময় পরামর্শ দেওয়া হয়। তাঁর পুরস্কারপ্রাপ্তি অন্য চাষিদের অনুপ্রাণিত করবে।