চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ছয়তলা একটি ভবন থেকে পড়ে মো. মহিম (২৫) নামের এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার ভোরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে হাসেম কমপ্লেক্স ভবনে এ ঘটনা ঘটে। নিহত তরুণের স্বজনদের দাবি, তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনার পর আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
নিহত মো. মহিম কর্ণফুলী উপজেলার বড়উঠান ইউনিয়নের দৌলতপুর এলাকার মো. আবুল কামালের ছেলে। তবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশে শোলকাটা গ্রামে বসবাস করতেন।
পুলিশ জানায়, আজ মঙ্গলবার ভোর পৌনে পাঁচটার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করেন এক ব্যক্তি। পরে পুলিশকে জানানো হয় ছয়তলা ভবনের ওপর থেকে মাটিতে পড়ে এক যুবক আহত হয়েছেন। সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত অবস্থায় তরুণকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনার জানাজানি হওয়ার পর নিহত তরুণ মো. মহিমের স্বজনেরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও হাসেম কমপ্লেক্স ভবনের কাচ ভাঙচুর করেন। এরপর পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
জানতে চাইলে নিহত তরুণের মা মনোয়ারা বেগম অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার ছেলে রাত ১০টার সময়ও ঘরে ছিল। রাত দেড়টার সময় একজন ঘর থেকে তাকে ডেকে নিয়ে যায়। সকালে খবর পাই ছেলে ছয়তলা থেকে পড়ে মারা গেছে। আমার ছেলেকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’
আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা চিকিৎসক মাহতাব উদ্দীন চৌধুরী বলেন, ‘ভোরে পুলিশ এক যুবককে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।’
পুলিশ বলছে, নিহত মহিম স্থানীয় কিশোর গ্যাং ‘সম্রাট গ্রুপের’ সদস্য ছিলেন। থানায় তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীদের তালিকায় তাঁর নাম রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় চারটি মামলাও রয়েছে। পুলিশের ধারণা, ওই ভবনে চুরি করতে গিয়ে ভবনের কোনো এক তলা থেকে পড়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, নিহত তরুণের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে থানায় চারটি মামলা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে আমরা জানতে পেরেছি ওই ভবনে চুরি করতে গিয়ে নিচে পড়ে গেলে এ দুর্ঘটনা ঘটনা ঘটে।’