
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় কলেজশিক্ষককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ছিনতাইয়ের ঘটনার চার দিন পরও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজে ছিনতাইকারীদের স্পষ্টভাবে দেখা গেলেও তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা যায়নি।
গত রোববার সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে শহরের পূর্ব ইসদাইর এলাকার রাবেয়া হোসেন উচ্চবিদ্যালয়সংলগ্ন সড়কে এ ঘটনা ঘটে। মোটরসাইকেলে আসা তিন ছিনতাইকারী চাপাতির মুখে জিম্মি করে হত্যার হুমকি দিয়ে নারায়ণগঞ্জ কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক ফারজানা আফরোজের কাছ থেকে সোনার চেইন, মুঠোফোন ও টাকা ছিনিয়ে নেয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পরপরই আশপাশের কয়েকটি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়। ফুটেজে দেখা যায়, একটি মোটরসাইকেলে তিন যুবক ঘটনাস্থলে আসে এবং দ্রুত ছিনতাই করে পালিয়ে যায়। তাদের দুজনের মুখমণ্ডল খোলা এবং একজন হেলমেট পরে ছিল। দুজনের মুখ খোলা থাকায় চেহারাও পরিষ্কারভাবে দেখা যায়। তবে এখন পর্যন্ত তাদের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।
এ সম্পর্কে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী প্রথম আলোকে বলেন, ফুটেজে ছিনতাইকারীদের কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের শনাক্তে কাজ চলছে। অভিযানে অগ্রগতি আছে, শিগগিরই গ্রেপ্তার করা হবে।
সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ শহর ও আশপাশের এলাকায় মোটরসাইকেলে আসা ছিনতাইকারীদের তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশের টহল কম, ভোরে লোকজন কম থাকার সুযোগে ছিনতাইকারী, দুর্বৃত্তরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে কর্মজীবী নারী, শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।
ভুক্তভোগী ফারজানা আফরোজ বলেন, ছিনতাইকারী ব্যক্তিরা অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে সবকিছু কেড়ে নিয়ে চলে গেল। সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে ছিনতাইকারীদের দেখা যাচ্ছে। কিন্তু গত চার দিনেও গ্রেপ্তার না হওয়ায় বিষয়টি হতাশাজনক। দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
অভিযোগ তদন্তকারী কর্মকর্তা ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, ছিনতাইয়ের দিনই এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়। সিসিটিভি ক্যামেরার বেশ কয়েকটি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। সেগুলো বিশ্লেষণ করে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। দ্রুত জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হবে।
নগরীতে ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে পুলিশের উদাসীনতাকে দায়ী করে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন বলেন, পুলিশের অস্ত্র হারানোর ঘটনায় যে তৎপরতা ও দ্রুততার সঙ্গে অভিযান চালিয়ে অস্ত্র উদ্ধার করে, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। কিন্তু সাধারণ মানুষ যখন প্রতিনিয়ত ছিনতাইয়ের শিকার হচ্ছে, তখন অপরাধীদের গ্রেপ্তারে তেমন আন্তরিকতা ও কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায় না। এই দ্বৈত মানসিকতা ও দায়িত্ব পালনে ঘাটতির কারণেই নগরীতে ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্য বাড়ছে।