প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। আজ সকালে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে
প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। আজ সকালে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে

প্রস্তাবকারী নিজেই, সমর্থনে মৃত ব্যক্তি, তিন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল

চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনে তিন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। আজ শুক্রবার সকালে যাচাই-বাছাইয়ে তাঁদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। দলের মনোনয়ন না থাকা, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া ভোটার তালিকায় মৃত ব্যক্তির স্বাক্ষর থাকা, প্রার্থীর প্রস্তাবকারী হিসেবে নিজের নাম থাকাসহ বিভিন্ন কারণে তাঁদের প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে।

চট্টগ্রাম-১ আসনে ১০ জন মনোনয়নপত্র জমা দেন। আজ সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের সম্মেলনকক্ষে তাঁদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। বাদ পড়া তিনজন হলেন শহিদুল ইসলাম চৌধুরী, এরশাদ উল্যা ও মোহাম্মদ আশরাফ ছিদ্দিকি।

বিএনপির প্রার্থী হিসেবে এই আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন শহিদুল ইসলাম চৌধুরী। তবে দলের মনোনয়ন না থাকায় সেটি বাতিল হয়েছে। জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া মোহাম্মদ এরশাদ উল্যা নিজেকেই নিজের প্রস্তাবকারী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এ কারণে তাঁর মনোনয়নও বাতিল হয়।

স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আসনটিতে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন মোহাম্মদ আশরাফ ছিদ্দিকি। নির্বাচনী এলাকার ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনের স্বাক্ষরযুক্ত তালিকা মনোনয়নপত্রের সঙ্গে যুক্ত করতে হয় স্বতন্ত্র প্রার্থীদের। তবে আশরাফ ছিদ্দিকির জমা দেওয়া তালিকা যাচাইয়ে দেখা যায়, সেখানে মৃত ব্যক্তিরও স্বাক্ষর রয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, তালিকা থেকে দ্বৈবচয়নের ভিত্তিতে নেওয়া ১০ জন ভোটারের ৮ জনই বলেছেন তাঁরা সই করেননি।

যাচাই-বাছাই শেষে চট্টগ্রাম-১ আসনে বৈধ প্রার্থীরা হলেন বিএনপির নুরুল আমিন, জামায়াতের মোহাম্মদ ছাইফুর রহমান, জাতীয় পার্টির সৈয়দ শাহাদাৎ হোসেন, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) এ কে এম আবু ইউছুপ, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের রেজাউল করিম ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ফেরদৌস আহমদ চৌধুরী।

চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে ১৫টি আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা হচ্ছেন বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। অন্য আসনটিতে রয়েছেন আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন চৌধুরী।

নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। ২৯ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল। মনোনয়নপত্র বাছাই গত ৩০ ডিসেম্বর শুরু হয়েছে। চলবে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে পরদিন ২১ জানুয়ারি। ২২ জানুয়ারি প্রচারণা শুরু করতে পারবেন প্রার্থীরা; চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত।

এবারের নির্বাচনে তিন রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন ২৩১ জন। তবে শেষ পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ১৪৩ জন। সবচেয়ে বেশি, অর্থাৎ ১২টি করে মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি-বাকলিয়া) ও চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর, ইপিজেড ও পতেঙ্গা) আসনে। সবচেয়ে কম, তিনটি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে।