
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে আবারও যাত্রীবাহী বাস নদীতে পড়েছে। আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দৌলতদিয়ার ৭ নম্বর ঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ‘এসবি সুপার ডিলাক্স’ নামে একটি যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। পরে চালক ও তাঁর সহকারীকে উদ্ধার করা হয়। বাসে যাত্রীরা ছিলেন না। ফেরিতে ওঠার আগেই তাঁরা নেমে গিয়েছিলেন।
এর আগে গত ২৫ মার্চ কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ফেরিঘাটে উঠতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। ওই ঘটনায় ২৬ জন যাত্রী প্রাণ হারান।
এসবি সুপার ডিলাক্স পরিবহনের দৌলতদিয়া ঘাট তত্ত্বাবধায়ক বারেক শেখ বলেন, কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা এসবি সুপার ডিলাক্স পরিবহনে ৩৭ জন যাত্রী ছিলেন। এ ছাড়া বাসের তত্ত্বাবধায়ক, সহকারী, চালকসহ মোট ৪০ জনের মতো ছিলেন। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাসটি দৌলতদিয়ার ৭ নম্বর ঘাটে ফেরিতে ওঠার জন্য ভেড়ে। এ সময় ঘাটের বাঁ পাশের একটি পকেটে বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর নামে বড় ফেরি ছিল। অপর পকেটে আরেকটি মাঝারি আকারের ফেরি ছিল। বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর ফেরিতে যানবাহন উঠছিল। বাসটি বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর ফেরিতে ওঠার চেষ্টাকালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আরেকটি ফেরির র্যামে আঘাত করে। এ সময় র্যাম ভেঙে বাসটি সরাসরি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। বাসটির যাত্রীরা ঘাটে নেমে গিয়েছিলেন। শুধু চালক ও তাঁর সহকারী বাসে ছিলেন। পরে তাঁদের উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়।
আল জুবায়ের নামের এক যাত্রী বলেন, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ফেরিঘাটে বাসের সব যাত্রীকে নামিয়ে দেওয়া হয়। এরপর চালক ও তাঁর সহকারী বাসটি নিয়ে ফেরিতে ওঠেন। তখন বাসটি হঠাৎ ডান দিকে বেঁকে গিয়ে পানিতে পড়ে যায়।
বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় উদ্ধার কার্যক্রম চালাতে ফায়ার সার্ভিসসহ বিআইডব্লিউটিএ, নৌ পুলিশ ঘটনাস্থলে কাজ শুরু করেছে। এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার কারণ এখনো জানা যায়নি।