রংপুরের কাউনিয়ায় মাদ্রাসার আবাসিক এক ছাত্রকে (১৩) ধর্ষণের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন।
ওই ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করলেও আপস-মীমাংসার কথা বলে তাঁকে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করার অভিযোগ উঠেছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে আজ মঙ্গলবার অভিভাবক ও স্থানীয় লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে ওই শিক্ষক (২৪) পলাতক।
এ সম্পর্কে কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিহাব উদ্দিন বলেন, আজ শিশুটির বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
পুলিশ, শিশুটির স্বজন ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ৩ সেপ্টেম্বর রাতে মাদ্রাসার আবাসিক ছাত্ররা খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। ওই সময় অভিযুক্ত শিক্ষক ম্যাসাজ করে দেওয়ার কথা বলে শিশুটিকে তাঁর কক্ষে ডেকে নেন। একপর্যায়ে তিনি শিশুটিকে ধর্ষণ করেন। বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য ভয়ভীতি দেখান তিনি। সোমবার রাতেও ওই শিক্ষক শিশুটিকে তাঁর কক্ষে ডেকে নিয়ে আবারও ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এ সময় শিশুটি শৌচাগারে যাওয়ার কথা বলে কক্ষ থেকে বের হয়ে মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে বাড়িতে যায়। সে পরে স্বজনদের কাছে ঘটনা খুলে বলে।
রাতেই স্বজনেরা মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান। এরপর অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করা হয়। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ শিশুটির অভিভাবকদের মঙ্গলবার সকালে বিষয়টি নিয়ে সালিস হবে বলে আশ্বস্ত করে। সকালে অভিযুক্ত শিক্ষককে মাদ্রাসার পরিচালকের ছেলের জিম্মায় রেখে অন্য শিক্ষকেরা ক্লাসে যান। অভিযোগ রয়েছে, সালিস বসার আগেই ওই শিক্ষককে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়।
ঘটনাটি জানাজানি হলে মাদ্রাসার সামনে অভিভাবক ও স্থানীয় লোকজন জড়ো হন। উত্তেজনা দেখা দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, ওই মাদ্রাসায় এর আগেও শিশু নিপীড়নের ঘটনা ঘটেছে। তবে অভিভাবকদের ভয় দেখিয়ে সেসব ঘটনা ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে। তাঁরা অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
অভিযুক্ত শিক্ষককে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাদ্রাসার পরিচালকের ছেলে। তিনি বলেন, ‘ওই শিক্ষককে পালাতে আমি কোনো সহযোগিতা করিনি। সকালে কীভাবে সবার অগোচরে তিনি পালিয়ে গেছেন, তা বলতে পারি না।’