
চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে একটি বিপন্ন প্রজাতির মেছো বিড়াল হত্যা করে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ঝুলিয়ে রাখার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল সোমবার রাতে উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের বশিরীয়া মাদ্রাসা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তবে মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা এটি দেখতে পান। তবে দেখতে বাঘের মতো হওয়ায় অনেকেই এটি নিয়ে কৌতূহল প্রকাশ করেন।
এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা শহীদুল ইসলামকে দুই হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। তাঁর মুরগির খামার থেকে ফাঁদ পেতে মেছো বিড়ালটিকে ধরা হয়েছিল। এরপর এটিকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশনায় এ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়।
জানতে চাইলে উপকূলীয় বন বিভাগের সন্দ্বীপ রেঞ্জের কর্মকর্তা মো. নিজাম উদ্দিন বলেন, বন্য প্রাণী হত্যা যে শাস্তিযোগ্য অপরাধ,এ বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির পর্যাপ্ত ধারণা ছিল না। তাই তাঁকে সতর্ক করে জরিমানা করা হয়েছে।
মেছো বিড়াল মূলত একটি ছোট প্রজাতির বিড়াল। ওজন ৫ থেকে ১৬ কেজি। দক্ষিণ এশিয়ার জলাভূমি–অধ্যুষিত এলাকায় এরা প্রধানত বসবাস করে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় খুব কম পাওয়া যায়। বাসার বিড়াল পানি পছন্দ না করলেও মেছো বিড়াল তার জলজ অভ্যাস ও মাছ ধরার কৌশলের জন্য বিখ্যাত। পানিপ্রধান পরিবেশের জন্য অভিযোজিত। খাটো গড়নের মেছো বিড়ালদের লেজও ছোট, সাঁতারের সুবিধার জন্য ব্যাঙের পায়ের মতো তাদের পায়ের আঙুলের মাঝে পাতলা ত্বকের আংশিকভাবে সংযোগ আছে। এদের খাবার প্রধানত মাছ, জলাভূমির পাখি এবং অন্যান্য ছোট জলজ। শরীরের রঙে খড়-হলুদের মাঝে ছোট ছোট কালো কালো ছোপ। এ কারণে এটিকে অনেকে বাঘ ভেবে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং পিটিয়ে হত্যা করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সন্দ্বীপের বিভিন্ন এলাকায় প্রায়ই মেছো বিড়াল ও অনুরূপ বন্য প্রাণী হত্যার ঘটনা ঘটে। বন বিভাগের তদারকির ঘাটতি ও স্থানীয়দের অসচেতনতার কারণে এসব ঘটনা থামছে। আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি না হলে জীববৈচিত্র্যের এই ক্ষতি রোধ করা কঠিন হবে।
বন বিভাগের চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন্য প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা দীপান্বিতা ভট্টাচার্য্য বলেন, মেছো বিড়াল একটি সংরক্ষিত বন্য প্রাণী। এ ধরনের প্রাণী হত্যা করলে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে।