গাছ থেকে পাকা আম পাড়া হচ্ছে। শুক্রবার সকালে নাটোর সদর উপজেলার ভাতুড়িয়া হর্টিকালচার সেন্টারে
গাছ থেকে পাকা আম পাড়া হচ্ছে। শুক্রবার সকালে নাটোর সদর উপজেলার ভাতুড়িয়া হর্টিকালচার সেন্টারে

নাটোরে গুটি ও বৈশাখী জাতের আম সংগ্রহ শুরু

নাটোর উত্তরাঞ্চলের চতুর্থ বৃহত্তম আম উৎপাদনকারী জেলা। এ জেলায় আজ শুক্রবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে চলতি মৌসুমের আম পাড়া শুরু হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও ভালো ফলন হওয়ায় জেলায় ৪০০ কোটি টাকার আম বেচাকেনার সম্ভাবনা দেখছে কৃষি বিভাগ ও বাগানমালিকেরা।

জেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, কৃষি বিভাগের ম্যাঙ্গো ক্যালেন্ডার অনুসারে, চাষিরা আজ সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন বাগানের গুটি ও বৈশাখী জাতের আম পাড়া শুরু করেছেন। প্রথম দিন চাষিরা কিছুটা অপ্রস্তুত থাকলেও যেসব বাগানে গাছপাকা আম দেখা গেছে, সেসব গাছের আম সংগ্রহ করা হচ্ছে। শ্রমিকেরা গাছ থেকে আম নামিয়ে বাছাই ও বাজারজাত করার প্রস্তুতি দুপুরের মধ্যেই শেষ করেন। দুপুরের পর সংগ্রহ করা আম পৌঁছে গেছে জেলার নির্ধারিত পাইকারি আড়তে।

আড়তে আম নিয়ে আসা হয়েছে। শুক্রবার সকালে বড়াইগ্রাম উপজেলার আহম্মদপুর আড়তে

সকালে কথা হয় বড়াইগ্রাম উপজেলার আহম্মদপুর গ্রামের আমচাষি মজিবর রহমানের সঙ্গে। তিনি বৈশাখী জাতের আম সংগ্রহ করছিলেন। গাছপাকা আমগুলো নিজের জন্য রেখে বাকি আম পাঠান আহম্মদপুর বাসস্ট্যান্ডের আড়তে। তিনি বলেন, শুরুর দিকে ঝড়ে কয়েক দফা আম ঝরে পড়লেও যা অবশিষ্ট ছিল, তা অনুকূল আবহাওয়ায় বেশ বড় আকৃতির হয়েছে। দাম মোটামুটি পেলে লোকসান হবে না।

আহম্মদপুর আড়তের শ্রমিক নজরুল ইসলাম জানান, অল্প কিছু আম দুপুরের পরে আড়তে এসেছে। গুটি ও বৈশাখী আম ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হয়েছে। সংগৃহীত আম সন্ধ্যার মধ্যেই ঢাকায় পাঠানোর প্রস্তুতি চলছিল।

কৃষি বিভাগ জানায়, এবার নাটোরে ৫ হাজার ৬৯৩ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬৮ হাজার ৩১৬ মেট্রিক টন। গত বছর জেলায় প্রায় ৩৫০ কোটি টাকার আম কেনাবেচা হলেও এবার তা ৪০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

জেলা কৃষি কর্মকর্তা হাবিবুল ইসলাম খান আম সংগ্রহ শুরুর কথা নিশ্চিত করে বলেন, এবার আমের ফলন ভালো। চাষিরা দামও ভালো পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।