জয়পুরহাট জেলার মানচিত্র
জয়পুরহাট জেলার মানচিত্র

‘বাবা, আমাকে ছাড়িয়ে নাও’—পুলিশ পরিচয়ে ফোন, টাকা পাঠানোর পরই বেরিয়ে এল আসল রহস্য

‘আমি আক্কেলপুর থানার এসআই ফিরোজ হোসেন বলছি। আপনার ছেলেসহ তিনজনকে মাদকসহ আটক করেছি। ছেলেকে ছাড়াতে ৩৫ হাজার টাকা লাগবে। আগে ছেলের সঙ্গে কথা বলুন।’ এরপর ফোনের অপর প্রান্ত থেকে কান্নাজড়িত কণ্ঠে ভেসে আসে, ‘বাবা, আমাকে ছাড়িয়ে নাও।’

মুঠোফোনে এমন কথোপকথনের পর দিশাহারা হয়ে পড়েন জয়পুরহাটের আক্কেলপুর পৌর শহরের পশ্চিম রেলগেট মোড়ের বাসিন্দা শহিদুর রহমান কবিরাজ। ছেলেকে থানা-পুলিশের ঝামেলা থেকে বাঁচাতে দর-কষাকষির একপর্যায়ে বিকাশে পাঠিয়ে দেন ৭ হাজার টাকা। টাকা পাঠানোর পর ফোন বন্ধ পেয়ে বুঝতে পারেন, প্রতারণার শিকার হয়েছেন তিনি। পরে ছেলের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পারেন, তিনি নিরাপদে বাড়ির কাছে আছেন।

গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে আটটার দিকে পুলিশ পরিচয়ে এমন প্রতারণার ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শহিদুর রহমানের ছেলের নাম রাসেল কবিরাজ। ঘটনাটি রাতেই মৌখিকভাবে আক্কেলপুর থানাকে জানিয়েছে পরিবার।

শহিদুর রহমান কবিরাজ জানান, এশার নামাজের পরপরই একটি অপরিচিত নম্বর থেকে তাঁর মুঠোফোনে কল আসে। ফোনের অপর প্রান্তের ব্যক্তি নিজেকে আক্কেলপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফিরোজ হোসেন পরিচয় দিয়ে বলেন, তাঁর ছেলেসহ তিনজনকে পেট্রলপাম্প এলাকার কাছে মাদকসহ আটক করা হয়েছে। ছেলেকে ছাড়াতে হলে ৩৫ হাজার টাকা দিতে হবে, অন্যথায় তাঁদের থানায় নিয়ে যাওয়া হবে।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে শহিদুর রহমান বলেন, ‘ফোনে পুলিশের গাড়ির সাইরেনের মতো শব্দও শুনতে পাচ্ছিলাম। এরপর একজনকে আমার ছেলের পরিচয় দিয়ে কথা বলানো হয়। সে কান্নাজড়িত কণ্ঠে আমাকে দ্রুত ছাড়িয়ে নেওয়ার অনুরোধ করে। আমি পুরো বিষয় বিশ্বাস করে ফেলি। পরে আমার ছোট ভাই আবদুস সালাম কবিরাজও ওই ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেন। একপর্যায়ে দর-কষাকষির পর ৭ হাজার টাকায় রাজি হয় প্রতারক। এরপর একটি বিকাশ এজেন্টের দোকান থেকে দেওয়া নম্বরে ৭ হাজার টাকা পাঠানো হয়। টাকা পাঠানোর পরপরই নম্বরটি বন্ধ হয়ে যায়। পরে ছেলেকে ফোন দিলে সে জানায়, “সে বাসার কাছেই আছে।” তখন বুঝতে পারি, প্রতারণার শিকার হয়েছি। পরে নম্বরটি ট্রু-কলার অ্যাপে সার্চ দিলে সেখানে “পুলিশ পরিচয়ে প্রতারক” লেখা ভেসে ওঠে।’

ভুক্তভোগীর ছোট ভাই আবদুস সালাম কবিরাজ বলেন, এমন ঘটনার মুখোমুখি তাঁরা আগে কখনো হননি। এ জন্য প্রতারকদের ফাঁদ বুঝতে পারেননি। ভাতিজাকে দ্রুত ছাড়ানোর চেষ্টা করতে গিয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছেন। যে নম্বর থেকে ফোন এসেছে ও যে বিকাশ নম্বরে টাকা পাঠানো হয়েছে, সেগুলো তাঁদের কাছে আছে। এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করবেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী চাইলে প্রতারকদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পারবে। এতে অন্যরা এমন প্রতারণার শিকার হওয়া থেকে রক্ষা পাবেন।

আক্কেলপুর থানার এসআই গণেশ চন্দ্র প্রথম আলোকে বলেন, ঘটনাটি শুনেছেন। কেউ ফোন করে টাকা চাইলে যাচাই না করে বিকাশে টাকা পাঠানো উচিত নয়। প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে হবে। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।