হাইওয়ে পুলিশ কর্মকর্তার সাক্ষাৎকার

কিশোর-তরুণদের মোটরসাইকেল দেওয়ার আগে ভাবুন

কুষ্টিয়ায় গত শুক্রবার মহাসড়কে মোটরসাইকেল রেসে প্রাণ গেছে তিন তরুণের। গতকাল রোববার মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এক কিশোর মারা যায়। আজ সোমবার ভোরে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন চারজন। কুষ্টিয়ার সড়ক ও মহাসড়কে দুর্ঘটনার বিষয় নিয়ে প্রথম আলো কথা বলেছে কুষ্টিয়া চৌড়হাস হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইদ্রীস আলীর সঙ্গে।

কুষ্টিয়া চৌড়হাস হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইদ্রীস আলী
ছবি: প্রথম আলো
প্রশ্ন

প্রথম আলো: মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা কেন বাড়ছে বলে মনে করেন?

ইদ্রীস আলী: অনিয়ন্ত্রিত গতিই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার প্রধান কারণ। বেপরোয়া গতিতে সড়ক–মহাসড়কে মোটরসাইকেল রেস চলে। আমরা প্রতিনিয়ত তল্লাশিচৌকি বসিয়ে জরিমানা আদায় করি। তারপরও মাঝেমধ্যে এসব চলছে।

প্রশ্ন

প্রথম আলো: মোটরসাইকেলচালকদের বিষয়ে আপনাদের মূল্যায়ন কেমন?

ইদ্রীস আলী: কুষ্টিয়া জেলায় ৪০ শতাংশ মোটরসাইকেলচালক কিশোর ও তরুণ। দ্রুতগতিসম্পন্ন (১৫০ সিসির বেশি) মোটরসাইকেল সবচেয়ে বেশি। এসব মোটরসাইকেল খুব দ্রুত সময়ে ছুটতে পারে। যে কারণে কম বয়সী ছেলেরা একসময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। সম্প্রতি এ রকম কয়েকটি ঘটনা পাওয়া গেছে।

প্রশ্ন

প্রথম আলো: শুধু কি চালকের কারণে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটে?

ইদ্রীস আলী: ঠিক তা নয়। তবে একটা বিষয় লক্ষণীয় যে মোটরসাইকেলচালকের মাথায় হেলমেট থাকছে। কিন্তু গতির কারণে (কমপক্ষে ১০০ কিলোমিটার গতি) ছিটকে পড়ছে সড়কে। এ ছাড়া অনেকে সাবধানে চালালেও এই অঞ্চলে বেপরোয়াভাবে ড্রাম ট্রাক চলে। এসব ড্রাম ট্রাকের চালকেরা তেমন দক্ষ নন। এমনকি মহাসড়কে শ্যালো ইঞ্জিনচালিত তিন চাকার নছিমন, করিমন, ভটভটি চলে। এসব বাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন।

প্রশ্ন

প্রথম আলো: এসব রোধে হাইওয়ে পুলিশ কী ভূমিকা রাখে?

ইদ্রীস আলী: আমরা আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করি। প্রায় সময় হাইওয়েতে চেকপোস্ট বসিয়ে জরিমানা আদায় করা হয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেটের প্রয়োজন হয়, সেটা আমরা পারি না। যদি প্রশাসন আরও তৎপর হয়, তবে দুর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব।

প্রশ্ন

প্রথম আলো: আপনার বিশেষ কোনো পরামর্শ আছে?

ইদ্রীস আলী: কুষ্টিয়ার অভিভাবকদের বলব, আপনার কিশোর–তরুণ ছেলের হাতে মোটরসাইকেল তুলে দেওয়ার আগে একটু ভেবে নিন। অবশ্যই লাইসেন্স রাখাসহ যাবতীয় বিধিনিষেধ মানার ব্যাপারে সচেতন করবেন। তারা যেন সড়কে চলতে কোনোভাবেই ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটারের বেশি গতি না তোলে। এই অঞ্চলে এর বেশি গতি হলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থেকে যায়।