
শুক্রবার বিকেল চারটা। সূর্য পশ্চিমে হেলে পড়েছে মাত্র। দিনাজপুর শহরের ইনস্টিটিউট মাঠে জড়ো হতে শুরু করেছেন ফুটবলপ্রেমীরা। পরনে আকাশি–সাদা রঙের জার্সি। হাতে আর্জেন্টিনার নানা আকৃতির পতাকা। কিছুক্ষণের মধ্যেই ইনস্টিটিউট মাঠ যেন খেলার মাঠ হয়ে উঠল। প্রিয় দেশের পতাকা মেলে ধরে সড়কে হাঁটা শুরু করলেন আর্জেন্টিনার ভক্ত–সমর্থকেরা। শোভাযাত্রায় নারী-পুরুষ, কিশোর-তরুণ, বৃদ্ধ প্রায় সব বয়সী মানুষই উপস্থিত। পেছনে সারিবদ্ধ মোটরসাইকেল, ইজিবাইক ও পিকআপে করে চলেছেন অনেকে।
দিনাজপুরে শুক্রবার বিকেলে আর্জেন্টিনার ফুটবল সমর্থকেরা এভাবেই নিজেদের অবস্থান জানান দিয়েছেন। এবার বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের প্রতি সমর্থন ও মনোবল বাড়াতেই এই আনন্দ শোভাযাত্রা। বিকেল পৌনে পাঁচটায় শোভাযাত্রাটি ইনস্টিটিউট মাঠ থেকে বের হয়ে শহরের মডার্ন মোড়, চারুবাবুর মোড়, মালদহপট্টি, মুন্সিপাড়া, লিলির মোড়, জেলমোড় হয়ে আবার ইনস্টিটিউট মাঠে গিয়ে শেষ হয়।
শোভাযাত্রায় অংশ নিতে আসা দিনাজপুর সদরের সোহেল রানা (৫২) বলেন, ‘সেই অর্থে এই আয়োজনের কোনো আয়োজক নেই। শুক্রবার বিকেলে আনন্দ র্যালি হবে, কয়েকজন ফেসবুকে এমন প্রচারণা চালিয়েছিলেন। আর তাতেই যথাসময়ে আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা হাজির। বুঝ হওয়ার পরে থেকে আর্জেন্টিনা দলকে সাপোর্ট করি। দীর্ঘ বিরতির পরে গতবার দলটি চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, এবারও ভালো খেলবে আশা করি। কারণ, আমাদের আছে বিশ্বের সেরা তারকা খেলোয়াড় লিওনেল মেসি।’
দিনাজপুরের বিরল উপজেলা থেকে এসেছেন সাব্বির হাসান (২৫)। তিনি বলেন, ‘শুক্রবার ছুটির দিন গ্রামেই থাকা হয়। আজকে সকালে ফেসবুক থেকে র্যালির কথা জানতে পারলাম। পরে বন্ধুদের সঙ্গে আলাপ করলাম। র্যালিতে আমরা নয়জন বন্ধু উপস্থিত হয়েছি। খুবই ভালো লাগছে। আজকে র্যালিতে অংশ না নিলে বুঝতে পারতাম না, আমি যে দলকে সাপোর্ট করি, সেই দেশের এত এত সাপোর্টার।’
শহরের ইনস্টিটিউট মাঠের পাশেই থাকেন শিক্ষক মামুর হোসেন। তিনি তাঁর ছেলেমেয়েকে নিয়ে শোভাযাত্রায় অংশ নিতে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘ছেলে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ছে। অবাক হয়ে যাই, আর্জেন্টিনার সব খেলোয়াড়ের নাম তার মুখস্থ। আজকে র্যালিতে অংশ নেবে বলে গতকাল রাতেই ছেলেমেয়ের জন্য জার্সি কিনেছি। আমি নিজেও আর্জেন্টিনার সমর্থক।’