সোনাগাজীতে দুই দিনে কুকুরের কামড়ে ১৯৫টি ভেড়ার মৃত্যু

ফেনী জেলার মানচিত্র
ফেনী জেলার মানচিত্র

ফেনীর সোনাগাজী উপজেলায় দুই দিনে কুকুরের কামড়ে তিন খামারির ১৯৫টি ভেড়ার মৃত্যু হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে গতকাল শনিবার রাত পর্যন্ত উপজেলার দক্ষিণ চর চান্দিয়া ও চর আবদুল্লাহ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এর মধ্যে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের ১৭৫টি, আদর্শগ্রাম এলাকার সাহাব উদ্দিন খানের ১৭টি ও দক্ষিণ চর চান্দিয়া এলাকা ফকির আহম্মদের ৩টি ভেড়ার মৃত্যু হয়।

এ নিয়ে গত এক সপ্তাহে কুকুরের কামড়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ২১৬টি ভেড়া মারা গেছে। আরও শতাধিক ভেড়াকে গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এতে প্রায় অর্ধকোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন খামারিরা।

নিজ খামারের ১৭৫টি ভেড়া মারা যাওয়ায় প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে দাবি করে নজরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর খামারে ২৭৫টি ভেড়া রয়েছে। একজন রাখাল ভেড়াগুলোর দেখাশোনা করেন। গত বৃহস্পতি ও শুক্রবার রাতে কয়েকটি পাগলা কুকুর তাঁর খামারের বেড়া ভেঙে ভেতরে ঢুকে দুই শতাধিক ভেড়াকে কামড়ে আহত করে। এতে বিষক্রিয়ায় ১৭৫টি ভেড়া মারা গেছে। এর মধ্যে ১৫০টি ভেড়া অন্তঃসত্ত্বা ছিল। গুরুতর আহত অবস্থায় আরও অর্ধশত ভেড়াকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

আদর্শগ্রাম এলাকার খামারি সাহাব উদ্দিন খান বলেন, তাঁর খামারে অর্ধশতাধিক ভেড়া রয়েছে। শনিবার রাতে কয়েকটি পাগলা কুকুর খামারে ঢুকে ২০ থেকে ২৫টি ভেড়াকে কামড়ে আহত করে। সকালে ১৭টি ভেড়া মারা যায়।

শনিবার বিকেলে কয়েকটি এলাকা পরিদর্শন করেছেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ও পশুচিকিৎসক সুপন নন্দী।

তিনি প্রথম আলোকে বলেন, গত তিন দিনে চর আবদুল্লাহসহ আশপাশের এলাকায় ১৯৫টি ভেড়া পাগলা কুকুরের কামড়ের বিষক্রিয়ায় মারা গেছে। এ ছাড়া এক সপ্তাহে কুকুরের কামড়ে আহত অন্তত অর্ধশত ভেড়া, ছাগল, গরু ও মহিষকে প্রাথমিক চিকিৎসা ও টিকা দিয়েছেন। আহত ভেড়াগুলোকে নিয়মিত ওষুধ খাওয়াতে বলা হয়েছে।

এভাবে কুকুরের কামড়ে খামারের ভেড়া মারা যাওয়ায় লোকসানের পাশাপাশি খামারিরা আতঙ্কিত উল্লেখ করে সুপন নন্দী বলেন, চরাঞ্চলের কুকুরগুলোকে টিকার আওতায় আনা যায় কি না, এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলবেন।