তিন প্রার্থী মিয়া গোলাম পরওয়ার, নজরুল ইসলাম মঞ্জু ও কৃষ্ণ নন্দী
তিন প্রার্থী মিয়া গোলাম পরওয়ার, নজরুল ইসলাম মঞ্জু ও কৃষ্ণ নন্দী

খুলনার ৬টি আসন

হেরে গেলেন গোলাম পরওয়ার, মঞ্জু ও কৃষ্ণ নন্দী, বিএনপি জিতেছে ৪টিতে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনার ছয়টি আসনের চারটিতে জয় পেয়েছেন বিএনপির প্রার্থীরা। বাকি দুটি আসনে জয় পেয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা। খুলনা নগর এলাকার দুটি আসনের একটিতে জয় পেয়েছে জামায়াত। এই প্রথমবার খুলনা নগরের কোনো আসনে জয় পেল দলটি।

খুলনা-১ আসনে জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আমির এজাজ খান, খুলনা-৩ আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম (বকুল), খুলনা-৪ আসনে বিএনপির তথ্যবিষয়ক সম্পাদক এস কে আজিজুল বারী (হেলাল) ও খুলনা-৫ আসনে বিসিবির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ আলি আসগার জয় পেয়েছেন। অন্যদিকে খুলনা-২ আসনে জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও মহানগর সেক্রেটারি শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন (হেলাল) এবং খুলনা-৬ আসনে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চল সহকারী পরিচালক আবুল কালাম আজাদ জয় পেয়েছেন।

খুলনা-৫ আসন থেকে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, খুলনা-২ থেকে খুলনা নগর বিএনপির সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু এবং খুলনা-১ আসনের জামায়াতের আলোচিত প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী হেরে গেছেন।

কৃষ্ণ নন্দী হেরেছেন ৫০ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে

হিন্দু-অধ্যুষিত খুলনার দাকোপ ও বটিয়াঘাটা উপজেলা নিয়ে গঠিত খুলনা-১ আসনে এবারের নির্বাচনে ১২ জন প্রার্থী ছিলেন। এর মধ্যে হিন্দু সম্প্রদায়ের আটজন প্রার্থী মাঠে ছিলেন। জামায়াতে ইসলামী প্রথা ভেঙে ডুমুরিয়া উপজেলা হিন্দু কমিটির সাবেক সভাপতি কৃষ্ণ নন্দীকে এখানে প্রার্থী করে। তিনি সারা দেশে আলোচনা তৈরি করতে পেরেছিলেন। তবে ভোটের মাঠে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেননি। ছয়টি আসনের মধ্যে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে হেরেছেন কৃষ্ণ নন্দী।

খুলনা-১ আসনে বিএনপির আমির এজাজ খান পেয়েছেন ১ লাখ ২১ হাজার ৩৫২ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কৃষ্ণ নন্দী পান ৭০ হাজার ৩৪৬ ভোট। ভোটের ব্যবধান ৫১ হাজার ৬। এই আসনে পোস্টাল কেন্দ্রসহ মোট কেন্দ্র ছিল ১২০টি। এখানে তৃতীয় অবস্থানে আছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আবু সাঈদ। তিনি পেয়েছেন ৫ হাজার ৬১৯ ভোট।

হেরে গেলেন হেভিওয়েট প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু

খুলনা-২ (সদর-সোনাডাঙ্গা) আসনে বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে হারিয়ে জামায়াতে ইসলামীর শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল বিজয়ী হয়েছেন। জামায়াতের প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৯৩ হাজার ৭৮৯ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নজরুল ইসলাম মঞ্জু ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৮৮ হাজার ১৯৭ ভোট। দুজনের ভোটের ব্যবধান ৫ হাজার ৫৯২। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আমানুল্লাহ হাতপাখা প্রতীকে পেয়েছেন ৭ হাজার ২৯৮ ভোট।

২০০৮ সালে খুলনার ছয়টি আসনের মধ্যে একমাত্র বিএনপির প্রার্থী হিসেবে খুলনা-২ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন নজরুল ইসলাম মঞ্জু। ২০০১ সালে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এই আসন থেকে জয় পান। ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে এখানে বিএনপি থেকে জয় পান সাবেক স্পিকার শেখ রাজ্জাক আলী। ১৯৯৬ সালের পর এই আসনে কখনো প্রার্থী দেয়নি জামায়াত।

রকিবুল ইসলাম ও আজিজুল বারী জয়ী

খুলনা-৩ আসনে পোস্টাল ভোটকেন্দ্রসহ ১১৬টি কেন্দ্রের বেসরকারি ফলে ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির কেন্দ্রীয় ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল বিজয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ৭৪ হাজার ৮৪৫ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মহানগর আমির মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান পেয়েছেন ৬৬ হাজার ১০ ভোট। ভোটের ব্যবধান ৮ হাজার ৮৩৫।

খুলনা-৩ আসনে মোট ভোটার ছিলেন ২ লাখ ৫৪ হাজার ৪০৯ জন। ভোট পড়েছে ১ লাখ ৪৯ হাজার ১০৪টি। মোট প্রার্থী ছিলেন ১০ জন।

খুলনা-৪ (রূপসা-তেরখাদা-দিঘলিয়া) আসনে বিএনপির তথ্যবিষয়ক সম্পাদক এস কে আজিজুল বারী হেলাল বিজয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ২৩ হাজার ১৬২ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী খেলাফত মজলিসের এস এম সাখাওয়াত হোসাইন পেয়েছেন ১ লাখ ৯ হাজার ৫৩০ ভোট। ব্যবধান ১৩ হাজার ৬৩২। খুলনা বিভাগের ৩৬টি আসনের মধ্যে শুধু এই আসনটি জামায়াত তাদের জোটসঙ্গীকে ছেড়ে দিয়েছিল।

মিয়া গোলাম পরওয়ার জিততে পারেননি

খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) আসনে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার হেরে গেছেন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৪৬ হাজার ২৪৬ ভোট। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী বিজয়ী বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ আলি আসগার পেয়েছেন ১ লাখ ৪৮ হাজার ৮৫৪ ভোট। ব্যবধান ২ হাজার ৬০৮।

পোস্টাল কেন্দ্রসহ আসনটিতে মোট কেন্দ্র ছিল ১৫১টি। পরওয়ার ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন চারদলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে। ২০০৮ ও ২০১৮ সালেও তিনি বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী ছিলেন।

এ আসনের লক্ষাধিক ভোটার হিন্দু সম্প্রদায়ের। তাঁদের ভোট পেতে দুই প্রার্থীই চেষ্টা চালিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত হিন্দু ভোট ও আওয়ামী লীগের ভোট ব্যবধান তৈরি করেছে বলে মনে করছেন রাজনীতি বিশ্লেষকেরা।

খুলনা-৬ আসনে জামায়াতের আবুল কালাম আজাদ বিজয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৫০ হাজার ৭২৪ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব এস এম মনিরুল হাসান পেয়েছেন ১ লাখ ২৪ হাজার ৭১০ ভোট। ব্যবধান ২৬ হাজার ১৪।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাত দুইটার দিকে খুলনা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আ স ম জামশেদ খোন্দকার এসব আসনের ফলাফল ঘোষণা শেষ করেন।