সুনামগঞ্জ শহরের হুসেন বখত চত্বরে প্রতিবাদ সভা ও সংক্ষিপ্ত পরিসরে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান করে জেলা উদীচী। মঙ্গলবার
সুনামগঞ্জ শহরের হুসেন বখত চত্বরে প্রতিবাদ সভা ও সংক্ষিপ্ত পরিসরে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান করে জেলা উদীচী। মঙ্গলবার

সুনামগঞ্জে উদীচীকে ঐতিহ্য জাদুঘর প্রাঙ্গণে বৈশাখের অনুষ্ঠান করতে না দেওয়ার অভিযোগ

সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ঐতিহ্য জাদুঘর প্রাঙ্গণে এবারের পয়লা বৈশাখের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান করতে না দেওয়ার অভিযোগ করেছেন উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সদস্যরা। তাঁদের দাবি, এক দশকের বেশি সময় ধরে এখানে নিয়মিতভাবে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান হয়ে এলেও এবার অনুষ্ঠান করতে প্রশাসন থেকে অনুমতি দেওয়া হয়নি।

উদীচীর পক্ষ থেকে সংগঠনের সভাপতি, সুনামগঞ্জের নারী আন্দোলনের বিশিষ্ট নেত্রী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শীলা রায় এবং সাধারণ সম্পাদক জহির উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, শুধু জাদুঘর প্রাঙ্গণে নয়, শহরের অন্য একটি স্থানেও বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করা হয়েছিল, কিন্তু সেখানেও প্রশাসন থেকে অনুমতি পাওয়া যায়নি।

এ প্রসঙ্গে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, শুধু ঐতিহ্য জাদুঘর প্রাঙ্গণ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়নি। অনুষ্ঠান করতে বাধা দেওয়ার বিষয়টি সঠিক নয়। সরকারি আয়োজন থাকার কারণে তাদের অনুরোধ করা হয়েছিল সে আয়োজনে অংশ নিতে। আলাদা বর্ষবরণ অনুষ্ঠান করতে কোনো বাধা নেই।

তবে উদীচীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, প্রতিবছরের মতো এবারও তারা সুনামগঞ্জ ঐতিহ্য জাদুঘর প্রাঙ্গণে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করেছিল। এ বিষয়ে ৮ এপ্রিল জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অনুমতি চাওয়া হয়। জেলা প্রশাসক মৌখিকভাবে জানান, অনুষ্ঠানের গানের ও অন্যান্য পরিবেশনার তালিকা জমা দিতে হবে। উদীচীর মতে, একটি স্বাধীন ও গণমুখী সাংস্কৃতিক সংগঠন হিসেবে তারা গানের তালিকা প্রদান করতে বাধ্য নয়। ফলে শহরের উকিলপাড়ায় রিভার ভিউয়ের বটতলায় বিকল্প বর্ষবরণ উৎসব আয়োজনের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু পয়লা বৈশাখের আগের দিন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মুঠোফোনে জানান যে সরকারি আয়োজনে সব সংগঠন থাকছে, আলাদা আয়োজন করা যাবে না।

উদীচীর সাধারণ সম্পাদক জহির উদ্দিন বলেন, এর প্রতিবাদে তাঁরা আজ মঙ্গলবার সকালে শহরের হুসেন বখত চত্বরে প্রতিবাদ সভা ও সংক্ষিপ্ত পরিসরে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান করেন। প্রশাসনের এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে। এ ধরনের আচরণ স্বাধীন সংস্কৃতিচর্চাকে বাধাগ্রস্ত করছে।