
ঝিনাইদহ শহরে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যে জুতা ঝোলানো অবস্থার একটি ছবি আজ মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে কে বা কারা জুতা ঝুলিয়েছে, তা জানা যায়নি। এ ছাড়া জুতা ঝোলানোর সময় দেখেছেন, এমন কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
শহরের প্রবেশদ্বার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের নামে নির্মিত চত্বরে এই ভাস্কর্য রয়েছে। এ ঘটনায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটি জানার পর বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. কামালুজ্জামান লোক পাঠিয়ে সেটা নামিয়েছেন বলে জানান। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি দেখার পর তিনি শামীম হোসেন নামের একজনকে সেখানে পাঠান। শামীম সেখানে গিয়ে জুতা নামিয়ে এসেছেন।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে কামালুজ্জামান বলেন, এটা খুবই দুঃখজনক। বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
স্থানীয় একাধিক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সকালে তাঁরা দোকান খুলতে এসে বিষয়টি দেখেন। তখনই এ নিয়ে আলোচনা–সমালোচনা শুরু হয়। কিছুক্ষণ পরই একজন এসে জুতাটি নামিয়ে ফেলেন। এর বেশি কেউ বলতে চাননি।
কয়েকজন বীর মুক্তিযোদ্ধা বলেন, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান ঝিনাইদহ তথা গোটা দেশের গর্ব। মহান মুক্তিযুদ্ধে জীবন দিয়ে তিনি বীরত্বপূর্ণ ইতিহাস রচনা করেছেন। এর আগেও তাঁর নামে নির্মিত স্থাপনা ভেঙে ফেলার ঘটনা ঘটেছে। আর আজকের এ ঘটনাও অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। যারা এ ধরনের জঘন্য কাজ করেছে, তদন্ত করে দ্রুত তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তাঁরা।
ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন জানান, বিষয়টি তাঁদের নজরে এসেছে। ইতিমধ্যে এ নিয়ে তাঁরা বৈঠকে বসেছেন। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। যারাই জড়িত থাকুক, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে তিনি জানান।
ঝিনাইদহ-ঢাকা মহাসড়কের মাঝখানে স্থাপন করা হয় বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের এই ভাস্কর্য। ২০১৭ সালের ২৬ মার্চ তৎকালীন জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ ও পৌরসভার মেয়র সাইদুল করিম ভাস্কর্যের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পরে নির্মাণাধীন অবস্থায় থমকে যায় ভাস্কর্য তৈরির পুরো প্রক্রিয়া।
ভাস্কর্যটি পূর্ণাঙ্গ রূপ না পাওয়ায় অযত্ন–অবহেলায় পড়ে থাকে দীর্ঘদিন। ভাস্কর্যের বেদির ওপরে ফেলা হতো ময়লা–আবর্জনা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সরকারের পতনের পর ভাস্কর্যটি দুই দফা ভাঙচুর করা হয়। গত জুলাই মাসে এটি অপসারণের জন্য ভাঙচুর করা হয়। কিন্তু ওই ভাঙচুরের দায় কেউ নেয়নি। বিষয়টি নিয়ে খবর প্রকাশিত হলে ভাঙচুর বন্ধ হয়।