
চেক জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে রাজশাহীতে ‘মহানন্দা এগ্রোকেয়ার লিমিটেড’–এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আমিনুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার রাতে নগরের উপশহরের ২ নম্বর সেক্টরের ভাড়া বাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে কোম্পানির চেয়ারম্যান ও আমিনুল ইসলামের স্ত্রী জেসমিন আরা খাতুনকেও গত ১২ এপ্রিল রাতে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল। বর্তমানে তিনি জামিনে আছেন। রাজশাহী ও রাজশাহীর বাইরে কোম্পানির অংশীদারত্ব বা লভ্যাংশ দেওয়ার নামে এই দম্পতির বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগী ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আমিনুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী জেসমিন আরা খাতুনের বিরুদ্ধে চেক জালিয়াতি, অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগে রাজশাহীর আদালতে ছয়টি, নাটোর, যশোর ও বগুড়ায় একটি করে মামলা চলমান। কাউকে কোম্পানির লভ্যাংশ দেওয়ার নামে আবার কাউকে অংশীদার করার নামে টাকা নিয়ে প্রমাণ হিসেবে তাঁদের চুক্তিপত্র ও চেক সরবরাহ করা হয়। পরে লভ্যাংশ ও অংশীদারত্ব দেননি। বরং টাকা ফেরত চাইলে উল্টো মামলার হুমকি দিয়েছেন। বাধ্য হয়ে তাঁরা আদালতের আশ্রয় নিয়েছেন।
শিল্পনগরের বি-৩২৭ নম্বর কারখানায় মহানন্দা এগ্রোকেয়ার লিমিটেডের প্রধান কার্যালয় রয়েছে। কার্যালয়টি এখন বন্ধ। ভবনের মালিকও প্রতারণার অভিযোগে ওই দম্পতির বিরুদ্ধে উকিল নোটিশ দিয়েছেন।
মহানন্দা এগ্রোকেয়ারের এমডি আমিনুল ইসলাম (৩৯) ও তাঁর স্ত্রী কোম্পানির চেয়ারম্যানের জেসমিন আরা খাতুন (৩৮) রাজশাহী নগরের উপশহরের ২ নম্বর সেক্টরের একটি ভাড়া বাসায় থাকেন। সেখান থেকে একটি প্রতারণার মামলায় নগরের বোয়ালিয়া মডেল থানা-পুলিশ গতকাল দিবাগত রাত একটার দিকে আমিনুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুমা মুস্তারী বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেন।
এদিকে প্রতারণার মামলায় জেসমিন আরা খাতুন গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। ১৭ দিন পর তিনি আদালতে মুচলেকা দিয়ে জামিন পান। পরে তিনি ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। মামলাটি পিবিআইকে তদন্ত দেওয়া হয়েছে। এই মামলায় সাতজনকে আসামি করা হয়েছে। তাঁর মধ্যে প্রধান আসামি করা হয়েছে নগরের রাজপাড়া থানার তেরখাদিয়া এলাকার আলমগীর কবিরকে (৪০)। তিনি ১০ লাখ টাকার চেক জালিয়াতির অভিযোগে জেসমিন আরার বিরুদ্ধে একটি ও তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে ৩১ লাখ টাকার চেক জালিয়াতির অভিযোগে আদালতে দুটি মামলা করেছেন। হত্যাচেষ্টা মামলার অন্য আসামিরাও ওই দম্পতির বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ করেছিলেন।
মামলার আরজিতে জেসমিন আরা খাতুন বলেন, লাঠি, বাঁশ দিয়ে মারধর ও কিল-ঘুষি মেরে তাঁর নাক-মুখ ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছে। মামলায় ঘটনার সময় উল্লেখ করা হয়েছে ১১ এপ্রিল রাত সাড়ে ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে। ওই দিন রাত ১২টা ৪০ মিনিটে (অর্থাৎ ১২ এপ্রিল) রাতে বাড়ির সামনের রাস্তা থেকে জেসমিন আরা খাতুনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ সময় তাঁর স্বামী আমিনুল ইসলাম আত্মগোপনে ছিলেন।
ওই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বোয়ালিয়া মডেল থানার উপপরিদর্শক মনিরুল ইসলাম। গ্রেপ্তারের আগে তাঁকে (জেসমিন আরা খাতুন) মারধরের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, পুলিশ তাঁর গায়ে কোনো আঘাতের চিহ্ন দেখেনি। তবে থানায় আসার পর মাথার মধ্যে অস্থির বোধ হচ্ছিল বললে তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসক তখনই ব্যবস্থাপত্র দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
এ মামলায় জেসমিন আরা টাকা দেওয়ার শর্তে মুচলেকা দিয়ে ২৮ এপ্রিল জামিনে মুক্তি পান। এর ১৭ দিন পর ১৪ মে তিনি ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে আদালতে মামলা করেন। গ্রেপ্তার হওয়ার আগে গত মঙ্গলবার আমিনুল ইসলামের সঙ্গে কথা হয়। ব্যবসা করার জন্য টাকা নেওয়ার কথা তিনি স্বীকার করেন। তবে তিনি দাবি করেন, পরে তাঁরা আর তাঁর (মামলার বাদী) সঙ্গে ব্যবসা করতে চাননি। তিনি ধীরে ধীরে তাঁদের টাকা ফেরত দিচ্ছিলেন। কিন্তু তাঁর চেক জালিয়াতির মামলা করা হয়েছে। সেই মামলায় টাকার অঙ্ক বেশি করে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে।