
নাটোরের লালপুরে বাকনাই গ্রামের পালপাড়ায় চাঁদা দাবি করে ৫টি বাড়িতে চিঠি দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল শনিবার রাত ১১টার দিকে এসব চিঠি পাওয়া যায়। এতে সব হিন্দু পরিবারকে ২০ হাজার করে টাকা দিতে বলা হয়েছে। অন্যথায় ‘সময় খুব খারাপ যাবে’ বলে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় গতকাল রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। লালপুর থানা-পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পুলিশ ইতিমধ্যে এ বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে। ওই এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
বাকনাই গ্রামের পালপাড়ায় ৫৫টি হিন্দু পরিবারের বসবাস। গতকাল রাত ১১টার দিকে নারায়ণ কুমার পালের বাড়ির বারান্দায় তাঁর ছেলে অরুণ কুমার পাল একটি চিঠি দেখতে পান। তিনি প্রথমে বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানান। দ্রুতই খবরটি প্রতিবেশীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। পরে দেখা যায়, অজামিল পাল, সুব্রত পাল, অধির পাল ও ষষ্ঠী পালের বাড়িতেও একই রকম চিঠি দেওয়া হয়েছে।
সেভেন স্টার কর্তৃপক্ষ নাম দিয়ে ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘আপনাদের বাড়িতে একটি চিঠি দিলাম, আশা করি, কোনো বিকল্প চিন্তা করবেন না। মনে রাখবেন, জীবন গেলে যাবে আপনাদের পরিবারের, ভালো মনে বিশ হাজার টাকা দিয়ে দিবেন।’ বিকাশের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে টাকা পরিশোধ না করলে পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। সেখানে যোগাযোগের জন্য একটি মুঠোফোন নম্বর দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে হুমকি দেওয়া হয়েছে, ‘কোনো মানুষকে জানাবেন না, যদি কেউ জানতে পারে, তাহলে আপনাদের পরিবারের লাশ রাস্তায় পড়ে থাকবে।’
চিঠিতে দেওয়া মুঠোফোন নম্বরে আজ রোববার বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।
এ ঘটনার পর থেকে পালপাড়ার হিন্দু পরিবারগুলোর মধ্যে ভয় ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক পরিবার নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে। দ্রুত দোষী ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে তারা।
লালপুর উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি দীপেন্দ্রনাথ সাহা বলেন, ‘ঘটনা শোনার পর আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) জানাই। ভুক্তভোগী ব্যক্তিদের সঙ্গেও কথা বলি। আমরা চাই, দ্রুত তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইন-আদালতে সোপর্দ করা হোক। তা না হলে আমাদের সম্প্রদায়ের লোকজনের আতঙ্ক কাটবে না।’
খবর পেয়ে গতকাল রাতেই লালপুর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং চিঠি জব্দ করে। পুলিশ এর উৎস শনাক্ত ও জড়িত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে তদন্ত শুরু করেছে।
এ বিষয়ে লালপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে। চিঠিটি জব্দ করা হয়েছে এবং এর উৎস অনুসন্ধান করা হচ্ছে। জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
ওসি শফিকুল ইসলাম জানান, চিঠিতে উল্লেখিত বিকাশ নম্বরটি বন্ধ রয়েছে। নম্বরটি সিলেট এলাকার।