নিহত আল আমিন
নিহত আল আমিন

মোটরসাইকেলে একজনকে ধাওয়া দিচ্ছিলেন পুলিশ সদস্য, ধাক্কা দিয়ে ১০০ ফুট দূরে নিয়ে গেল বাস

চট্টগ্রাম নগরে বাসের ধাক্কায় আহত হয়ে চিকিৎসাধীন এক পুলিশ সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। তাঁর নাম আল আমিন। তিনি নগর পুলিশে পিএমও শাখায় কর্মরত ছিলেন। আজ সোমবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

এর আগে গতকাল রোববার সকালে নগরের ওয়াসা মোড়ে একটি বাসের ধাক্কায় আহত হন মোটরসাইকেল আরোহী পুলিশ সদস্য আল আমিন। এ ঘটনায় বাসটির চালক মো. মোশারফ (৩৮) ও সহকারী জয় দাশকে (৩০) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে সড়ক পরিবহন আইনে মামলা করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, গতকাল সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ওয়াসা মোড়ে একটি তল্লাশিচৌকিতে দায়িত্ব পালন করছিলেন আল আমিনসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য। এ সময় তিনজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে সন্দেহজনকভাবে হেঁটে যেতে দেখেন তাঁরা। ওই ব্যক্তিদের থামার সংকেত দেওয়া হলে একজন দৌড়ে জামিয়াতুল ফালাহ মসজিদের মাঠের দিকে পালানোর চেষ্টা করেন। তখন ওই ব্যক্তিকে ধরতে চৌকিতে ইনচার্জের দায়িত্বে থাকা সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) হিরণ মিয়া মসজিদের উত্তর গেটের দিকে এবং কনস্টেবল আল আমিন মোটরসাইকেলে করে পশ্চিম গেটের দিকে এগিয়ে যান।

পুলিশের দাবি, কনস্টেবল আল আমিন মোটরসাইকেল নিয়ে পালাতে থাকা ব্যক্তিকে ধাওয়া দেওয়ার সময় লিডার্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি বাস আল আমিনকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। বাসটি মোটরসাইকেলসহ আল আমিনকে প্রায় ১০০ ফুট দূরে টেনে নিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় আল আমিনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান তাঁর সহকর্মীরা। স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় বাসটির চালক ও সহকারীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

নগর পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) হাবিবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আল আমিনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় বাসের চালক ও সহকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

জানতে চাইলে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহেদুল কবির প্রথম আলোকে বলেন, নিহত পুলিশ সদস্যের লাশের সুরতহাল হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।