রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার গোগ্রাম ইউনিয়নের আলীপুরে উপজেলা জামায়াতের আমিরের গাড়ি ঘেরাও করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার গোগ্রাম ইউনিয়নের আলীপুরে উপজেলা জামায়াতের আমিরের গাড়ি ঘেরাও করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে

মধ্যরাতে গোদাগাড়ী উপজেলা জামায়াতের আমিরের গাড়ি ঘেরাও

গভীর রাতে টাকা বিলি করার অভিযোগে রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে উপজেলা জামায়াতের আমির মো. নুমাউল আলীর গাড়ি ঘেরাও করেন স্থানীয় বিএনপি ও অন্যান্য সংগঠনের লোকজন।

গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে উপজেলার গোগ্রাম ইউনিয়নের আলীপুরে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

ঘটনার সময় স্থানীয় লোকজন ওই জামায়াত নেতার মাইক্রোবাসের চাবি কেড়ে নেন। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তিনি ছাড়া পান। স্থানীয় প্রশাসন বলছে, ওই নেতার গাড়িতে কোনো টাকা পাওয়া যায়নি।

ফেসবুকের ছড়ানো ভিডিওতে একজনকে উচ্চ স্বরে বলতে শোনা যায়, ‘ওই গাড়ি যাবে না। গাড়ির ড্রাইভার, গাড়ি মিডিলে করেন।’ আরেকজন বলেন, ‘আমরা আমরাই কথা বুইলব। লাঠি ক্যানে।’ তারপর অনেক মানুষ একসঙ্গে কথা বলছিলেন, তখন কারও কথাই পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে না। শুধু হাঙ্গামা শোনা যায়। পরে একজনের কথা বোঝা যায়, ‘আলীপুর গ্রামে জামায়াত-শিবির ঢুকে গেছে।’

আজ সকালে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে গোদাগাড়ী উপজেলা জামায়াতের আমির মো. নুমাউল আলী প্রথম আলোকে বলেন, রাত তখন প্রায় পৌনে ১২টা। তাঁদের একজন কর্মী আড়াই কিলোমিটার দূরে আলীপুর গ্রামে যাবেন। তাই তাঁকে গাড়িতে করে পৌঁছে দিতে গিয়েছিলেন তিনি। এ সময় গোগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবদুর রউফ দিলীপ, তাঁর ছেলে, ভাতিজা ও তাঁর কর্মীরা গাড়ি আটক করেন। ‘তাঁরা বলেছেন, আপনারা টাকা দিতে আসছেন। আরে ভাই, আমার কাছে টাকা কই? আমি গাড়ি থেকে নামিইনি। কারও সঙ্গে কথাও বলিনি। কীভাবে আমি টাকা দিচ্ছি।’

এ ব্যাপারে গোদাগাড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুস সালাম বলেন, ‘রাত ১২টার পরে গেছে। সন্দেহ তো করবেই। কেন যাবে? এটা তো আচরণবিধি লঙ্ঘন। অভিযোগ ছিল টাকা বিলির। আমাদের লোকজন সেটা ঠেকিয়েছে। পরে প্রশাসন গিয়ে নাকি টাকাপয়সা পায়নি। এটা আমি শুনেছি।’

গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুস সাদাত বলেন, ‘গোদাগাড়ী উপজেলা জামায়াতের আমিরের গাড়ি গোগ্রাম ইউনিয়নের আলীপুরে সম্ভবত স্থানীয় বিএনপি বা অন্যান্য সংগঠনের লোকজন আটক করেছিল। তাদের বক্তব্য ছিল যে তিনি টাকা বিলি করছেন। খবর পেয়ে এসি ল্যান্ড ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শামসুল ইসলাম সেখানে যান। সঙ্গে ছিলেন সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট আদিল ও পুলিশের একটা টিম। সেখানে যাওয়ার পরে বিষয়টাকে ওখানে নিষ্পত্তি করা হয়েছে। টাকাপয়সা পাওয়া যায়নি। ওনাকে নিরাপদে বের করে দেওয়া হয়েছে।’