আদালত
আদালত

শিশুকে ধর্ষণ–হত্যা : ঘটনার ৩০ দিনের মধ্যে রায়, একজনের মৃত্যুদণ্ড

নড়াইলে পাঁচ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার দায়ে এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আজ বুধবার দুপুরে নড়াইল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শেখ ছামিদুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।

ঘটনার ৩০ দিন এবং অভিযোগ (চার্জ) গঠনের দিন থেকে ৯ কর্মদিবসের মধ্যে বিচারিক কার্যক্রম শেষে এ রায় ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি তারিকুজ্জামান।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ওই ব্যক্তির নাম রবিউল সিকদার (৩৭)। তিনি নড়াইল সদর উপজেলার মৃত আতিয়ার সিকদারের ছেলে।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলার শুনানি পরিচালনা করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি আজিবুর রহমান ও অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি তারিকুজ্জামান লিটু। মামলায় বাদীপক্ষে নিযুক্ত আইনজীবী ছিলেন ইস্রাফিল খবির রাজু। অন্যদিকে রাষ্ট্র নিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন কাজী আবুল কালাম।
নড়াইলের ইতিহাসে এই প্রথম এত দ্রুত কোনো মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ হলো বলে জানান তারিকুজ্জামান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘নড়াইলের জনগণের দাবি ছিল, চাঞ্চল্যকর এ ধর্ষণ ও হত্যা মামলাটি দ্রুত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে। আদালতের মাধ্যমে আজ এ মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। আমাদের দাবি থাকবে, এই মামলায় যে আদেশ হয়েছে, এটা যেন দ্রুততম সময়ে বাস্তবায়ন হয়।’

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ সূত্রে জানা যায়, গত ২০ জুলাই বিকেলে শিশুটি তার বাবার সঙ্গে স্থানীয় বাজার থেকে বাড়ি আসে। এ সময় শিশুটির জন্য তার মা ঘরে নুডলস রান্না করছিলেন, বাবাও ঘরেই বসে ছিলেন। ওই সময় শিশুটি ঘর থেকে বের হয়। ৩-৪ মিনিট পর শিশুটিকে ডাকাডাকি করলে কোনো সাড়াশব্দ পায় না পরিবার। এরপর বাইরে গিয়েও তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।

একপর্যায়ে সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটের দিকে প্রতিবেশী রবিউলের বাড়ির উঠানে দাঁড়িয়ে শিশুটির বাবা ডাকাডাকি করেন। এ সময় রবিউল নিজ ঘরের দরজা খুলে দৌড়ে পালিয়ে যায়। দ্রুত ঘরের মধ্যে ঢুকে শিশুটির বাবা দেখতে পান, খাটের ওপর চাদর দিয়ে মোড়ানো অচেতন অবস্থায় পড়ে আছে রক্তাক্ত শিশুটি। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। পরের দিন সকালে রবিউলকে আটক করে পুলিশে দেন স্থানীয় লোকজন। ওই দিনই ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে রবিউলের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে নড়াইল সদর থানায় মামলা করেন শিশুটির বাবা। পরে আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন রবিউল।

ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও ডিএনএ প্রতিবেদন পাওয়ার পর রবিউলকে অভিযুক্ত করে মামলার অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। ৬ আগস্ট অভিযোগপত্র গ্রহণ করে ৯ আগস্ট আদালত চার্জ গঠন করে। এ মামলায় বাদীসহ মোট ২৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। মামলায় কোনো সাফাই সাক্ষী ছিল না বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন নিহত শিশুর পরিবারের সদস্যরা। দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচারিক কার্যক্রম শেষ হওয়ায় তাঁরা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে রাষ্ট্রের কাছে দ্রুততম সময়ের মধ্যে রায় কার্যকরের দাবিও জানান তাঁরা।
নিহত শিশুর বাবা বলেন, ‘অল্প সময়ে যে রায় হয়েছে, এতে আমি খুশি। রায় কার্যকর হলে আমি অনেক খুশি হব। সেই কার্যকরের জন্য আমি দাবি জানাই।’