চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এমআরআই যন্ত্র। সম্প্রতি তোলা
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এমআরআই যন্ত্র। সম্প্রতি তোলা

এক মাস পর চালু হলো চমেক হাসপাতালের এমআরআই

প্রায় এক মাস বন্ধ থাকার পর অবশেষে চালু হয়েছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের এমআরআই (ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স ইমেজিং) যন্ত্র। আজ শনিবার দুপুর থেকে যন্ত্রটিতে পরীক্ষা–নিরীক্ষা করা হচ্ছে। ‘গ্র্যাডিয়েন্ট অ্যামপ্লিফায়ার’ নষ্ট হওয়ায় গত ৬ মার্চ থেকে যন্ত্রটি অচল হয়ে যায়। পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একটি বিকল যন্ত্র থেকে যন্ত্রাংশ এনে এমআরআই যন্ত্রটি সচল করা হয়েছে।

চমেক হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এমআরআই যন্ত্রটি পুরোনো। সবশেষ টানা তিন বছর বিকল থাকার পর মেরামত শেষে ২০২৫ সালের জুনে এটি চালু হয়। পরে ৬ মার্চ আবার অচল হয়ে পড়ে এটি। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একটি বিকল এমআরআই যন্ত্র থেকে গ্র্যাডিয়েন্ট অ্যামপ্লিফায়ার এনে যন্ত্রটি আবার সচল করা হলো। এই যন্ত্রাংশের দাম ৮০ লাখ টাকা হলেও সরকারি হাসপাতাল থেকে আসায় এতে ব্যয় হয়নি।

চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. তসলিম উদ্দীন প্রথম আলোকে বলেন, ‘রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একটি অকেজো এমআরআই মেশিন আছে। সেখানে এই যন্ত্রাংশ ভালো ছিল। সরকারিভাবে যোগাযোগ করে সেটি আনা হয়েছে। এখন এমআরআই মেশিনটি সচল।’

হাসপাতাল সূত্র জানায়, ২০১৭ সালের ১৬ আগস্ট ৯ কোটি ৮৪ লাখ টাকায় চমেক হাসপাতালে এমআরআই যন্ত্রটি বসানো হয়। এরপর ২০২১ সালের মে মাসে বিকল হয়ে পড়ে যন্ত্রটি। তখন মেরামত করা হলেও ২০২২ সালের মে মাসে যন্ত্রটি প্রায় পুরোপুরি অকার্যকর হয়ে পড়ে। এরপর প্রায় তিন বছর সেটি ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি। মেরামতের পর ২০২৫ সালের জুনে এটি আবার চালু হয়। এরপর ৬ মার্চ এটি আবার নষ্ট হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সরকার নির্ধারিত মূল্যে চমেক হাসপাতালে এমআরআই পরীক্ষার খরচ পড়ে তিন থেকে চার হাজার টাকা। তবে বাইরে বেসরকারি হাসপাতালে করতে ৭ থেকে ১৮ হাজার টাকা খরচ হয়। সেই হিসাবে চমেক হাসপাতালে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের তুলনায় খরচ অর্ধেকের কম। চমেক হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ৮ থেকে ১০টি এমআরআই করা হয়।

পার্বত্য জেলা, কক্সবাজার, নোয়াখালীসহ বিভিন্ন জেলা থেকে রোগীরা চমেক হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালে যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে দীর্ঘদিন পড়ে থাকে। এ কারণে সাধারণ মানুষের চিকিৎসার ব্যয় বাড়ে। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য বেসরকারি হাসপাতালে ব্যয়বহুল পরীক্ষা করানো কঠিন হয়ে পড়ে।