উদ্যোক্তা হওয়ার গল্প ২

করোনার ধকল সামলাতে নার্সারি গড়ে সফল চয়ন 

৭ শতক খালি জমিতে নার্সারি গড়ে তোলেন চয়ন। সেখানে ফলদ ও বনজ গাছের চারা উৎপাদন শুরু করেন। 

নার্সারিতে কাজ করছেন চয়ন সিংহ। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের বালিগাঁও গ্রামে
প্রথম আলো

উচ্চমাধ্যমিক পাস করে সিলেট নগরে একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অফিস সহকারীর কাজ করতেন চয়ন সিংহ। ২০২০ সালে করোনার সংক্রমণ শুরুর পর প্রতিষ্ঠান বন্ধ হলে চলে আসেন বাড়িতে। করোনার ধকল সামাল দিতে বাড়ির ৭ শতক খালি জমিতে নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখানে বিভিন্ন জাতের ফলদ ও বনজ গাছের চারা উৎপাদন শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে সেখানে বিভিন্ন শাকসবজি উৎপাদন করে এখন সফল উদ্যোক্তা তিনি।

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের বালিগাঁও গ্রামের বাসিন্দা চয়ন সিংহ (২৮)। সম্প্রতি বাড়িতে গেলে আলাপকালে উঠে আসে তাঁর সফলতার কথা। তিনি জানান, লেখাপড়ার শেষের দিকে ২০০৮-০৯ সালে উপজেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে গাছগাছালির চারা উৎপাদন ও শাকসবজি চাষের ওপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছিলেন। তবে সিলেটে খণ্ডকালীন হিসেবে একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অফিস সহকারীর চাকরিতে চলে যান। করোনার সংক্রমণ শুরুর পর বাড়ি ফিরে এসে মাত্র পাঁচ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে ৭ শতক জমিতে বিভিন্ন জাতের গাছের চারা উৎপাদন শুরু করেন। এ কাজে তাঁর বাবা তাঁকে সহায়তা করেন।

বহুজাতিক তেল ও গ্যাস কোম্পানি শেভরনের পৃষ্ঠপোষকতায় ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট এন্টারপ্রাইজ (আইডিই) নামের একটি বেসরকারি সংস্থা চারা উৎপাদন বিষয়ে সিলেট বিভাগের উদ্যোক্তাদের জন্য তিন দিনের প্রশিক্ষণের আয়োজন করেছিল। সেখানে অংশগ্রহণ করেন চয়ন। তিনি জানান, সেই প্রশিক্ষণের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ভালোভাবে চারা উৎপাদনের মাধ্যমে বছরে ৪০–৫০ হাজার টাকা আয় করেন।

স্থানীয় কৃষি ব্লক সুপারভাইজারের সঙ্গে কৃষিকাজ নিয়ে তিনি মাঝেমধ্যে মতবিনিময় করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ নেন। চয়ন বলেন, করোনার সময় কোনো ব্যাংক বা সংস্থা থেকে আর্থিক সহায়তা পাননি। কিন্তু আইডিই থেকে তাঁকে প্রণোদনা হিসেবে ১৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল। সেই টাকা গাছের চারা ও শাকসবজি উৎপাদনে কাজে লাগিয়েছেন।

আয় বাড়াতে আরও প্রায় ৫ শতক জমিতে শুরু করেন বারোমাসি বেগুন, মরিচ, পেঁপেসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি উৎপাদন। একই সঙ্গে চলে বিভিন্ন জাতের ফলের কলম চারা উৎপাদন। এতে করে নিজেদের খাবার বাদে শাকসবজি বিক্রি করে তাঁর বার্ষিক আয় ২৫ হাজার টাকা বাড়ে। তাতে বাবাসহ চয়ন সিংহের সংসার চলে। তাঁকে অনুসরণ করে এখন এ গ্রামে আরও কয়েকজন গাছের চারা উৎপাদন ও শাকসবজি চাষ শুরু করেন।

এখন আবার গড়ে তুলেছেন আম, পেয়ারা, মাল্টাসহ নানা জাতের ফলের বাগান। চয়ন সিংহ বলেন, বনের পাশেই বাড়ি। তাই বন বিভাগ থেকে তাঁকে কিছু জমি বন্দোবস্ত দিলে গাছের চারা, ফল ও শাকসবজির উৎপাদন চাহিদামতো বাড়াতে পারবেন।