সিলেট টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। পানির উচ্চতা বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। এর মধ্যে সিলেটের পর্যটনকেন্দ্র কোম্পানীগঞ্জের সাদাপাথরে পানি বৃদ্ধির ফলে নৌকা চলাচল সাময়িক বন্ধ রেখেছে প্রশাসন। পাহাড়ি ঢলে সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্রের কিছু ভাসমান দোকানের মালামাল এবং আসবাব ভাসিয়ে নিয়ে গেছে।
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রবিন মিয়া জানান, রোববার সকাল থেকে কোম্পানীগঞ্জের সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্রের পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এ কারণে নৌকার ঘাটে নৌকা চলাচল সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে। সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্রে বর্তমানের পানির স্রোত বেশি থাকায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে নৌকা চলাচল স্বাভাবিক করা হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি প্রবাহিত হচ্ছে। নদীর ওই পয়েন্টে রোববার দুপুর ১২টায় ১২ দশমিক ২৫ মিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। নদীর ওই পয়েন্টে বিপৎসীমা ১২ দশমিক ৭৫ মিটার। এর আগে সকাল ছয়টায় নদীর ওই পয়েন্টে পানি ১২ দশমিক ২ মিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
একই নদীর সিলেট পয়েন্টে পানির বিপৎসীমা ১০ দশমিক ৮০ মিটার। ওই পয়েন্টে দুপুর ১২টায় পানি ৯ দশমিক ৩৯ মিটারে প্রবাহিত হচ্ছিল। এ ছাড়া কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে পানির বিপৎসীমা ১০ দশমিক ৪৫ মিটার। ওই পয়েন্টে পানি রোববার দুপুর ১২টায় ৯ দশমিক শূন্য ৫ মিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। পিয়ান নদের জাফলং পয়েন্টে বিপৎসীমা ১৩ মিটার, নদের ওই পয়েন্টে পানি ১০ দশমিক ৮০ মিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এ ছাড়া লোভাছড়া নদীর লোভাছড়া পয়েন্টে পানি বৃদ্ধি পেয়ে ১২ দশমিক ৭৪ মিটার এবং ধলাই নদের ইসলামপুর পয়েন্টে পানি ৯ দশমিক ৯১ মিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর সিলেট সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শনিবার সকাল ছয়টা থেকে রোববার সকাল ছয়টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৩৯ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। সিলেট পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বলেন, সিলেটের বৃষ্টিপাতের কারণে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা নেই। তবে পাহাড়ি ঢলের কারণে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।
বন্যা নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বরাত দিয়ে দীপক রঞ্জন জানান, ভারতের মেঘালয়ে মাত্র কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিপাতের কারণে সিলেটের সব কটি নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। আগামী তিন দিন ভারতের মেঘালয়ে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় সিলেটের নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে সিলেট অঞ্চলে আকস্মিক বন্যা হতে পারে। তবে পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্ট বন্যা স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম।