
সম্ভবত গত বছর গাছটির সঙ্গে দেখা। এটি গ্রামবাংলার একসময়ের পরিচিত একটি মৌসুমি ফলের গাছ। এখন তেমন দেখাই যায় না—প্রায় হারিয়ে যাওয়ার পথে। অনেকে নাম শুনেছেন, দেখেননি। নতুন প্রজন্মের অনেকে হয়তো ফলটির নামই শোনেনি। ফলটির নাম ডেউয়া। একসময় গ্রামের প্রায় বাড়িতেই একটা-দুইটা ডেউয়ার গাছ দেখা যেত। ফলটি পুষ্টিকর ও ভেষজ গুণসম্পন্ন।
গত শুক্রবার মৌলভীবাজার শহরের সৈয়ারপুর এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, একটি পুরোনো টিনের চালাঘরের ওপর গাছটি ডালপালা মেলে আছে। বড় বড় পাতার আড়ালে ডালগুলোয় থোকায় থোকায় ডেউয়া ধরেছে। কচি কাঁঠালের মতো ছোট ছোট গুচ্ছবদ্ধ ফল ঝুলে আছে। কোথাও চার-পাঁচটা, কোথাও দু–একটা। হলুদ হয়ে আসা কিছু ফল মাটিতে ঝরে পড়েছে।
একসময় গ্রামীণ জনপদে অন্য সব গাছের ভিড়ে ডেউয়া ফল আলাদা করে চোখে পড়ত। থোকায় থোকায় কাঁচা-পাকা ফলে ভরে উঠত গাছ। ফলটির উপকারিতা সম্পর্কে মানুষের কম জানাসহ নানা কারণে ফলটি এখন প্রায় হারিয়ে যাওয়ার পথে। শহরে এই ফলের দেখা পাওয়া দুর্লভ, অনেক গ্রামেই এখন ফলটির দেখা পাওয়া যায় না।
মৌলভীবাজারে ‘ডেউয়া’ নামে বেশি পরিচিত হলেও ঢেউয়া, মাদার, ডেউফল, ঢেউফল, বনকাঁঠাল, বত্তাসহ স্থানভেদে বিভিন্ন নামে পরিচিত। দেখতে এবড়োখেবড়ো। ফল গোলাকৃতির, ২ থেকে ৫ ইঞ্চি চওড়া। প্রতিটি ফল ২০০ থেকে ৩৫০ গ্রাম। স্ত্রী ও পুরুষ ফুল আলাদা। স্ত্রী ফুল থেকে ফল হয়। ফল কাঁঠালের মতো যৌগিক বা গুচ্ছ। পাকলে ভেতরে কাঁঠালের মতো কোয়া (কোষ) হয়। প্রতিটি ফলে ২০ থেকে ৩০টি কোয়া ও বীজ থাকে। বীজের গায়ের মাংসল অংশ খাওয়া হয়। কোষগুলো হলুদ রঙের। পাকা কোষ নরম, মোলায়েম। কাঁচা ফল সবুজ, পাকলে হলুদ হয়। ডেউয়ার ভেতরের শাঁস লালচে হলুদ। কাঁচা থাকতে ফলের স্বাদ টক। পাকলে টক–মিষ্টি স্বাদের। রান্না করেও ডেউয়া খাওয়া যায়। এটি ভারতীয় উপমহাদেশের সর্বত্র এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় জন্মে।
সাধারণত ফেব্রুয়ারির শেষ বা মার্চ মাসের প্রথম দিকে ফুল আসতে শুরু করে। মে মাসের শেষ দিক থেকে ফল পাকতে শুরু করে। গাছ রোপণের উপযুক্ত সময় বর্ষাকাল।