উড়ন্ত মশা নিধনে ব্যবহারের জন্য নতুন ওষুধ সাইপারমেথ্রিনের কার্যকারিতা যাচাইয়ে পরীক্ষা চালিয়েছে খুলনা সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে তিনটায় নগরে সিটি করপোরেশনের গ্যারেজে
উড়ন্ত মশা নিধনে ব্যবহারের জন্য নতুন ওষুধ সাইপারমেথ্রিনের কার্যকারিতা যাচাইয়ে পরীক্ষা চালিয়েছে খুলনা সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে তিনটায় নগরে সিটি করপোরেশনের গ্যারেজে

মশার লার্ভা মরছে না, ওষুধ ফেরত দিচ্ছে খুলনা সিটি করপোরেশন

মশার লার্ভা নিধনে মান যাচাইয়ের পরীক্ষায় সন্তোষজনক ফল না পাওয়ায় খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) কেনা দুই হাজার লিটার ওষুধের কার্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে ওষুধ ফেরত নিতে নির্দেশ দিয়েছে কেসিসি। এই ওষুধ কিনতে ব্যয় হয়েছিল প্রায় ৫৬ লাখ টাকা।

আজ মঙ্গলবার কেসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ঢাকার মেসার্স এম আর এন্টারপ্রাইজকে এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আগের কেনা দুই হাজার লিটার লার্ভিসাইড পরীক্ষায় মান উত্তীর্ণ হয়নি। তবে বর্তমান ডেঙ্গু পরিস্থিতি বিবেচনায় দ্রুত নতুন ওষুধ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেটারও মান পরীক্ষা করা হবে।
মো. আনিসুর রহমান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা, কেসিসি

এম আর এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. মাহবুবুর রহমান গাজী প্রথম আলোকে বলেন, ‘কার্যাদেশ বাতিলের কোনো চিঠি এখনো আমরা পাইনি। তবে তাঁদের পরীক্ষার পদ্ধতিই ঠিক ছিল না। তাঁরা তাঁদের মতো করে পরীক্ষা করেছেন। আমরা আবেদন করেছিলাম। তাঁরা বলেছিলেন, পুনরায় পরীক্ষা করবেন। বিষয়টি হলো, চিকিৎসক রোগীকে ওষুধ দিয়ে খাওয়ার নিয়ম বলে দিলেন। রোগী যদি নিজের মতো করে ওষুধ খেয়ে বলেন, এটি কার্যকর নয়, তাহলে তো হবে না।’

কেসিসির চিঠিতে বলা হয়েছে, এম আর এন্টারপ্রাইজ গত ৮ সেপ্টেম্বর দুই হাজার লিটার লার্ভিসাইড (ক্লোরপাইরিফস ২০ ইসি) সরবরাহ করে। ১২ সেপ্টেম্বর কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত কমিটি ওষুধের নমুনা সংগ্রহ করে মান যাচাই করে। পরীক্ষায় ওষুধ প্রয়োগের ২৪ ঘণ্টা পর লার্ভার মৃত্যুর হার পাওয়া যায় মাত্র ১২ শতাংশ। এ ফল সন্তোষজনক নয় বলে বিবেচনা করে কমিটি।

কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ওষুধের কার্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে। সেই সঙ্গে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে ওষুধ ফেরত নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

কেসিসি সূত্রে জানা গেছে, মশার লার্ভা ও উড়ন্ত মশা নিধনের জন্য সম্প্রতি ৫৬ লাখ টাকা দিয়ে দুই হাজার লিটার লার্ভিসাইড এবং ৮৪ লাখ টাকা দিয়ে তিন হাজার লিটার অ্যাডাল্টিসাইড (উড়ন্ত মশা) কেনে কেসিসি। এর মধ্যে লার্ভিসাইডের কার্যকারিতা পরীক্ষায় সন্তোষজনক ফল পাওয়া যায়নি।

বেশি দামে নতুন লার্ভিসাইড

মান পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়া ওষুধের পরিবর্তে নতুন করে লার্ভিসাইড কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেসিসি। মঙ্গলবার নগর ভবনের শহীদ আলতাফ মিলনায়তনে সিটি করপোরেশনের পরিচালনা কমিটির সভায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিচালিত নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেড থেকে আপাতত এক হাজার লিটার ওষুধ কেনার সিদ্ধান্ত হয়। ডিপিএম (ডিরেক্ট প্রকিউরমেন্ট মেথড) পদ্ধতিতে এই ওষুধ কেনা হবে। আগামী সপ্তাহে ওষুধ সরবরাহের কথা রয়েছে।

কেসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান বলেন, সাধারণত লার্ভা নিধনের ওষুধের দাম প্রতি লিটার প্রায় ২ হাজার ৮০০ টাকা। তবে নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ড থেকে নতুন যে ওষুধ কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছে, তাতে প্রতি লিটারে খরচ পড়বে প্রায় সাড়ে চার হাজার টাকা।

আনিসুর রহমান বলেন, আগের কেনা দুই হাজার লিটার লার্ভিসাইড পরীক্ষায় মান উত্তীর্ণ হয়নি। তবে বর্তমান ডেঙ্গু পরিস্থিতি বিবেচনায় দ্রুত নতুন ওষুধ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেটারও মান পরীক্ষা করা হবে।

সভায় ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধ এবং নগরে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতেও বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নগরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ইউনিপোল, বিলবোর্ড, প্যানা ও ফেস্টুনের মাধ্যমে জনসচেতনতামূলক প্রচার চালানো হবে। পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা দৈনিক দুই শিফটে চার ঘণ্টা করে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

উড়ন্ত মশা নিধনের ওষুধের পরীক্ষা

এদিকে উড়ন্ত মশা নিধনে ব্যবহারের জন্য নতুন ওষুধ সাইপারমেথ্রিনের কার্যকারিতা যাচাইয়ে পরীক্ষা চালিয়েছে কেসিসি। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে নগরের কেসিসির গ্যারেজে কীটতত্ত্ববিদ, কীটনাশকবিশেষজ্ঞ, সাংবাদিক ও নাগরিক নেতাদের উপস্থিতিতে এ পরীক্ষা করা হয়। কেসিসির প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু পরীক্ষা কার্যক্রম দেখতে সেখানে যান।

এর আগে গত শনিবার নতুন ওষুধের কার্যকারিতা পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে কীটতত্ত্ববিদ, কীটনাশকবিশেষজ্ঞ ও নাগরিক নেতারা উপস্থিত না থাকায় সেদিন পরীক্ষা করা হয়নি। পরীক্ষা শেষে নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, মশারি টানিয়ে তার ভেতরে মশা রেখে ফগার মেশিনের মাধ্যমে ওষুধ ছিটিয়ে কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টা মশার ওপর ওষুধের প্রভাব পর্যবেক্ষণ করা হবে। এরপর ওষুধটির কার্যকারিতা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ওষুধ কার্যকর হলে তা ব্যবহার করা হবে। অন্যথায় বিকল্প ওষুধের কথা ভাবা হবে।

কেসিসি প্রশাসক বলেন, খুলনায় ডেঙ্গুর বিস্তার ঘটেছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রী তিন মাস সময় দিয়েছেন। এরই মধ্যে এক মাস পার হয়েছে। আগামী দুই মাস সিটি করপোরেশনের কর্মসূচি চলবে। এ জন্য প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দেওয়ার পাশাপাশি প্রায় দুই কোটি টাকা আর্থিক সহযোগিতা করেছেন। নগরে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় সব কার্যক্রম চালানো হবে।