চুয়াডাঙ্গায় মালিক শ্রমিক সংগঠনের আহ্বানে ধর্মঘটের ফলে যাত্রীবাহী বাসগুলো স্ট্যান্ডে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। আজ শনিবার শহরতলী দৌলাতদিয়াড় বাসস্ট্যান্ড
চুয়াডাঙ্গায় মালিক শ্রমিক সংগঠনের আহ্বানে ধর্মঘটের ফলে যাত্রীবাহী বাসগুলো স্ট্যান্ডে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। আজ শনিবার শহরতলী দৌলাতদিয়াড় বাসস্ট্যান্ড

দুই দফা দাবিতে চুয়াডাঙ্গায় পাঁচ রুটে অনির্দিষ্টকালের বাস ধর্মঘট

চুয়াডাঙ্গায় আজ শনিবার সকাল থেকে আন্তজেলার পাঁচটি পথে অনির্দিষ্টকালের জন্য যাত্রীবাহী বাস ধর্মঘট শুরু হয়েছে। সদর উপজেলার আলুকদিয়ায় বাসশ্রমিকদের ওপর হামলায় আসামিদের গ্রেপ্তার এবং ইজিবাইক চলাচল নিয়ন্ত্রণে নির্ধারিত রং করার বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ—এই দুই দাবিতে স্থানীয় বাস মালিক ও শ্রমিকদের তিনটি সংগঠনের যৌথ সভার সিদ্ধান্তে গতকাল শুক্রবার রাতে এ ধর্মঘটের ডাক দেয়।

পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠনগুলোর ডাকা ধর্মঘটের কারণে চুয়াডাঙ্গা থেকে কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ ও মেহেরপুর জেলা এবং জেলার হাসাদহ ও আলমডাঙ্গা পথে সব ধরনের বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা, বরিশাল, রাজশাহীসহ দূরপাল্লার পথে বাস চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

ধর্মঘট আহ্বানকারী সংগঠনগুলো হলো চুয়াডাঙ্গা জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি, চুয়াডাঙ্গা জেলা বাস-মিনিবাস মালিক গ্রুপ এবং চুয়াডাঙ্গা জেলা বাস-মিনিবাস-কোচ ও মাইক্রোবাস সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন। শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি এম জেনারেল ইসলাম জানিয়েছেন, বিষয়টির দ্রুত সমাধান না হলে যেকোনো মুহূর্তে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হবে।

আজ সকালে চুয়াডাঙ্গা আন্তজেলা বাস টার্মিনাল ও দৌলাতদিয়াড় বাসস্ট্যান্ডে যাত্রীবাহী বাসগুলোকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। শহরের একাডেমি মোড়, কোর্ট মোড় ও বড়বাজার বাসস্ট্যান্ড ছিল ইজিবাইকের দখলে। আন্তজেলা পথে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় এসব পথের যাত্রীদের ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত ভ্যানে চলাচল করতে দেখা গেছে।

দৌলাতদিয়াড় বাসস্ট্যান্ডে কয়েকজন যাত্রীর সঙ্গে কথা হয়। তাঁরা জানান, বাস বন্ধ থাকায় ইজিবাইক-ভ্যানে ঝুঁকি নিয়ে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে। এ জন্য বাড়তি ভাড়া গুনতে হচ্ছে।

পরিবহন মালিক ও শ্রমিকসহ স্থানীয় এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেলে চুয়াডাঙ্গার শহরতলী দৌলাতদিয়াড়ে যাত্রী তোলাকে কেন্দ্র করে বাসশ্রমিকদের সঙ্গে ইজিবাইক শ্রমিকদের ধস্তাধস্তি হয়। এর জেরে ইজিবাইক চালকেরা সংগঠিত হয়ে ওই দিন আলুকদিয়ায় একটি যাত্রীবাহী বাস থামিয়ে চালক ও সুপারভাইজারকে মারধর করেন।

খবরটি জানাজানি হলে পরিবহন শ্রমিকেরা দৌলাতদিয়াড় বাসস্ট্যান্ডে সড়কে বাস আড়াআড়ি করে প্রতিবাদ জানান এবং হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

বাসশ্রমিকদের মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় শুক্রবার বিকেলে শ্রমিকেরা বাস চালানো থেকে বিরত থাকেন ও প্রতিবাদ জানান। উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে সন্ধ্যায় জেলা বাস-মিনিবাস মালিক গ্রুপের কার্যালয়ে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের তিনটি সংগঠনের যৌথ সভা হয়। সভায় উপস্থিত বাসশ্রমিক নেতারা জানান, আলুকদিয়ায় বাসশ্রমিকদের ওপর হামলাকারীদের গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত তাঁরা বাস চালাবেন না।

সেই সঙ্গে জেলা সড়ক নিরাপত্তা কমিটির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সড়কে ইজিবাইক চলাচল নিয়ন্ত্রণে উপজেলা ও পৌরসভাভিত্তিক আলাদা আলাদা রং প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করতে হবে বলেও দাবি জানানো হয়।

চুয়াডাঙ্গা জেলা বাস-মিনিবাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম প্রথম আলোকে বলেন, শুক্রবার পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের যৌথ সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ থেকে আন্তজেলার পাঁচটি রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। দ্রুততম সময়ে সুরাহা না হলে ভবিষ্যতে দূরপাল্লার পরিবহন বন্ধসহ কঠোর কর্মসূচি নেওয়া হবে।

জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, বিষয়টি নিয়ে পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা হয়েছে। পরিবহন মালিক-শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বসে দ্রুত সমাধান করা হবে।

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মিনহাজ-উল-ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, আলুকদিয়ার ঘটনায় পরিবহনশ্রমিকদের লিখিত অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি সার্বিক সমস্যা সমাধানে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের সঙ্গে কথা চলছে।