
নকলের শুরু করেছিলেন শিক্ষকেরা এবং বন্ধও শিক্ষকেরা করেছেন বলে মন্তব্য করে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেন, ‘নকলের ডেট অব বার্থ (জন্মতারিখ) ১৯৭২ সাল। সেই নকল ২০০১ সালে এসে সমূলে উৎপাটন করা হলো। ৭২ থেকে ২০০১ সাল—এই নকলের সহযোগিতা কারা করেছিল? নিশ্চয়ই শিক্ষকেরা। আবার ২০০১ সালে যখন আমি নকলের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করলাম। তখন নকল সমূলে উৎপাটন করেছিল শিক্ষকেরাই। একটা বিষয় প্রমাণিত; যদি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং সরকার বলে আমরা নকল চাই না, আমরা শিক্ষা খাতে গুনগত পরিবর্তন চাই, তাহলে নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব। আমাদের হ্যান্ড ও টুলস হচ্ছেন শিক্ষকেরা।’
আজ শনিবার বেলা দুইটার দিকে কুমিল্লা জেলা শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী। এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ২০২৬ উপলক্ষে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড, কুমিল্লা অঞ্চলের মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্রসচিবদের নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, কুমিল্লা। এদিন সকাল ১০টায় সভাটি শুরু হওয়ার সময় নির্ধারণ থাকলেও মন্ত্রী সভাস্থলে এসে পৌঁছান দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে।
নকল বন্ধে শিক্ষকদের অবদানের কথা উল্লেখ করে আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেন, ‘২০০১ থেকে ২০০৬ আমি কোনো শিক্ষককে আমদানি করিনি। আপনারাই এই দেশ থেকে নকল বন্ধ করেছিলেন। ২০০৬-এর পর আমরা আবারও ফিরে গেলাম সেই পুরোনো নকল যুগে। আবার একই অবস্থা। তার মানে যেভাবে সরকার চায়, সেভাবেই শিক্ষকেরা কাজ করেন। আবারও আমরা এসেছি, আমরা শিক্ষকদের সঙ্গে ছিলাম, আছি এবং আগামীতেও থাকব। তাহলে আবারও দেশকে নকলমুক্ত করা কি সম্ভব নয়? অবশ্যই সম্ভব। মনে রাখবেন, আপনারা শিক্ষক, আপনাদের হাতেই চালকের আসন। আমরা এবার আর নকল হতে দেব না।’
বিএনপির একটাই এজেন্ডা আছে, সেটি হচ্ছে আগামীর বাংলাদেশ মন্তব্য করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আগামীর বাংলাদেশ গড়তে একমাত্র মন্ত্রণালয় হচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় অন্য দলটি মন্ত্রণালয়ের মতো নয়। আমি মন্ত্রণালয়ের সব ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জিজ্ঞেস করলাম, সাদকায়ে জারিয়া কাকে বলে। আপনি একটি গাছ লাগান তার ফল মানুষ খাবে—এটা সাদকায়ে জারিয়া। আপনি এতিমখানা দিয়ে মানুষকে শিক্ষিত করছেন, কোরআনে হাফেজ বানাচ্ছেন, সুশিক্ষিত বানাচ্ছেন, আপনি সাদকায়ে জারিয়া পাচ্ছেন। একজন শিক্ষক যদি সত্যিকার অর্থেই ছাত্রকে পড়াশোনা শেখায়, ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে, তাহলে প্রত্যেক শিক্ষকই সাদকায়ে জারিয়ার কাজ করছেন।’
নিজের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় ইবাদতখানা মন্তব্য করে শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমার প্রতি আস্থা রেখে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব আমাকে দিয়েছেন। এই মন্ত্রণালয় আমার জন্য ইবাদতখানা। তাহলে বুঝতে হবে সেখানে আপনি নাপাক হয়ে ঢুকতে পারবেন না। ওই ইবাদতখানায় কাজ করার জন্য আপনাকে অজু করতে হবে। তার মানে আপনাকে সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করতে হবে।’
কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালাম, কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য মো. জসীম উদ্দিন, কুমিল্লা-১০ (লালমাই-নাঙ্গলকোট) আসনের সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল মান্নান, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা (টিপু)। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. শামছুল ইসলাম।
এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. রুহুল আমিন, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মিয়া মো. নুরুল হক, কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান, জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (মাধ্যমিক) মো. কবির আহমেদ।