ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহান বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ আমলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি নিয়োগ নিয়ে আমি নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছিলাম। ওই নোট অব ডিসেন্টের ওপর ভিত্তি করে প্রথম আলোর রোজিনা ইসলাম নিউজ করেছিলেন। এতে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালিক আমাকে হত্যার নির্দেশ দেন। বিষয়টি জানতে পেরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে জনপ্রশাসনে বদলি হয়ে যাই। পরের দিনই রোজিনা ইসলাম গ্রেপ্তার হন।’
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে চাকরিকালে নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে এ কথা বলেন বিদায়ী জেলা প্রশাসক।
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের টেকনোলজিস্ট ও টেকনিশিয়ান নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা হয়। সে সময় শারমিন আক্তার জাহান স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উপসচিব এবং ওই নিয়োগ কমিটির সদস্য ছিলেন। লিখিত পরীক্ষার অনিয়মের বিষয়ে তিনি ২০২১ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিবকে চিঠি দিয়েছিলেন।
২০২১ সালের ১২ এপ্রিল প্রথম আলোয় ‘স্বাস্থ্যে ১৮০০ জনকে নিয়োগ—এখন এক কোটি দেব, পরে আরও পাবেন’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
বিদায়ী জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহান বলেন, ‘ক্ষমতা দেখিয়ে তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক আমাকে মেরে ফেলার হুমকিসহ নির্দেশ দিয়েছিলেন। দেখেন ক্ষমতা দেখানো উনি এখন কোথায় আছেন! পরে নিয়োগের বিষয়টি নিয়ে অনেক তদন্ত হয়েছে।’
ওই নিয়োগে অনিয়ম প্রসঙ্গে শারমিন আক্তার জাহান বলেন, ‘তখন যে প্রশ্ন হয়েছিল তাতে আমি নিজেও ৫০-৫৫ পেতাম কিনা সন্দেহ। কিন্তু খাতায় দেখি অনেকে ৭০-৮০ করে পেয়েছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত খাতায় হাতের লেখা একই ধাঁচের। সাধারণত শুরুর সঙ্গে শেষের লেখার মিল থাকে না। এসব দিক বিবেচনায় আমার সন্দেহ হয়।’
বিদায়ী জেলা প্রশাসক আরও বলেন, ‘মৌখিক পরীক্ষা শুরু হলে দেখা যায়, যাঁরা অনেক নম্বর পেয়েছেন, গণিত তিনটার সঠিক উত্তর দিয়েছেন, কিন্তু তাঁরা মৌখিক পরীক্ষার কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে পারছেন না। পরে ওই নিয়োগ বাতিল হয়েছে।’
প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক আরও বলেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের দিন দুজন প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে বরখাস্তসহ কয়েকজনকে সাজা দিয়েছি। নির্বাচনে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। ২০২৬ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হয়েছে সবাই বলতে পারবে।’
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রেসক্লাবের সভাপতি জাবেদ রহিম। স্বাগত বক্তব্য দেন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. বাহারুল ইসলাম মোল্লা। এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রঞ্জন চন্দ্র দে উপস্থিত ছিলেন।