
মাঘের হিমেল বাতাস উপেক্ষা করে সকাল থেকে মুখর হয়ে ওঠে রাজশাহী নগরের শালবাগান এলাকার রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণ। শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের পদচারণে জমে ওঠে ‘ডাচ্-বাংলা ব্যাংক-প্রথম আলো গণিত উৎসব-২০২৬’-এর রাজশাহী আঞ্চলিক পর্ব।
‘গণিত শেখো, স্বপ্ন দেখো’ স্লোগানে আয়োজিত এ উৎসবে আজ শনিবার সকালে রাজশাহী বিভাগের চারটি জেলা (রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ ও নাটোর) থেকে অংশ নেয় প্রায় এক হাজার খুদে গণিতবিদ। সকাল ৯টায় জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় আনুষ্ঠানিকতা।
জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন ভেন্যুপ্রধান অধ্যাপক শাহাদাত হোসেন সরকার। বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াডের পতাকা উত্তোলন করেন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ কায়কোবাদ ও বুয়েটের সাবেক শিক্ষক এবং টেক্সাস ইনস্ট্রুমেন্টের সাবেক সিনিয়র ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হামিদ। আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডের পতাকা উত্তোলন করেন ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের রাজশাহী শাখার সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার নির্মল বৈষ্ণব। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জয়দীপ সুমন সরকার। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ।
উৎসবের অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বুয়েটের সাবেক শিক্ষক ও যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস ইনস্ট্রুমেন্টের সাবেক সিনিয়র ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হামিদ। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, গণিতের প্রতি আগ্রহ থাকাটা খুব দরকার। যারা প্রকৌশল বা বিজ্ঞানে থাকতে চায়, তাদের রক্তের ভেতরেই অঙ্ক থাকতে হয়। আর যে অঙ্কে ভালো, সে যেকোনো বিষয়ে ভালো করতে পারে।
মোহাম্মদ কায়কোবাদ বলেন, ‘অভিভাবকদের উৎসাহ না থাকলে ২০–২২ বছর ধরে আমরা এই আয়োজন সফলভাবে চালাতে পারতাম না। গণিত অলিম্পিয়াড বাংলাদেশে একটি ইতিবাচক সংস্কৃতি তৈরি করেছে।’
নির্মল বৈষ্ণব শিক্ষার্থীদের প্রশংসা করে বলেন, ‘তোমরা গণিতকে জয় করার পথে হাঁটছ। তোমরা দেশকে জয় করো, যেন সারা বিশ্বে বাংলাদেশের নাম ছড়িয়ে পড়ে।’
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষার্থীরা এক ঘণ্টাব্যাপী পরীক্ষায় অংশ নেয়। তারা মাঠ থেকে লাইন ধরে পরীক্ষাকেন্দ্রে যায়। শিক্ষার্থীদের সার্বিকভাবে সহযোগিতা করে রাজশাহী বন্ধুসভার সদস্যরা। এ সময় অভিভাবকেরা অপেক্ষা করেন মাঠের এক পাশে, কেউ গল্পে মেতে ওঠেন। অনেকে স্টল ঘুরে গণিতবিষয়ক বই কেনেন। এর ফাঁকে দেখা যায়, একদল অভিভাবক সকালের নাশতা সারছেন। তাঁরা জানান, ভোরে বের হওয়ায় খাওয়া হয়নি।
ছোট ছেলেকে নিয়ে নির্ধারিত সময়ের আগেই অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হন রাজশাহী সিভিল সার্জন অফিসে কর্মরত আয়নাল হক। তিনি বলেন, তাঁর বড় ছেলে পাবনা ক্যাডেট কলেজে পড়ে। তাঁর অংশগ্রহণ দেখে ছোট ছেলেরও গণিত উৎসবে অংশ নেওয়ার আগ্রহ হয়েছে। এ ধরনের উৎসব শিক্ষার্থীদের নতুন দ্বার খুলে দেবে।
ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের পৃষ্ঠপোষকতায় ও প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনায় গণিত উৎসবের আয়োজন করছে বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটি। রাজশাহী আঞ্চলিক পর্যায়ে চারটি ক্যাটাগরিতে প্রাইমারি (তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি বা সমমান), জুনিয়র (ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি বা সমমান), সেকেন্ডারি (নবম-দশম শ্রেণি) এবং হায়ার সেকেন্ডারি (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি) ও সমমানের প্রায় আড়াই হাজার শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেছিল। এর মধ্যে প্রাথমিকভাবে অনলাইনে পরীক্ষার মাধ্যমে ৯৪৬ শিক্ষার্থীকে নির্বাচিত করা হয়। উৎসব থেকে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা পরবর্তী সময় জাতীয় পর্যায়ে অংশ নেবে। আজ অনুষ্ঠিত উৎসবের পরীক্ষার ফলাফল পরবর্তী সময়ে ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকেরা।