আজিজুল হক কলেজে আইসিএমএবির ক্যাম্পাস খোলার চুক্তি, শিক্ষার্থীদের আপত্তি

সরকারি আজিজুল হক কলেজ
ছবি: প্রথম আলো

বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজে ‘দ্য ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশের’ (আইসিএমএবি) ক্যাম্পাস খুলে কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট (সিএমএ) কোর্স চালুর জন্য সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে। আইসিএমএবি ও আজিজুল হক কলেজ কর্তৃপক্ষের মধ্যে গতকাল শনিবার এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়।

এদিকে সরকারি কলেজে আইসিএমএবির ক্যাম্পাস খোলা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীরা। তাঁরা বলছেন, কলেজের শিক্ষার্থী প্রায় ৩৫ হাজার। প্রতিটি বিভাগে শ্রেণিকক্ষ–সংকট আছে। নতুন করে আরও ১৯টি বিষয়ে অনার্স কোর্স চালুর উদ্যোগও দীর্ঘদিন ঝুলে আছে। অথচ এসব সংকট নিরসনের বদলে কলেজ প্রশাসন বাইরের একটি প্রতিষ্ঠানকে ক্যাম্পাস চালুর অনুমতি দিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বার্থপরিপন্থী কাছ করেছে।

কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট (সিএমএ) কোর্স চালুর বিষয়ে সরকারি আজিজুল হক কলেজের অধ্যক্ষ শাহজাহান আলী এবং আইসিএমএবির প্রেসিডেন্ট মামুনুর রশিদ নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। পরে এ বিষয়ে বগুড়া প্রেসক্লাবে যৌথ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আইসিএমএবির কর্মকর্তারা বলেন, আড়াই বছর মেয়াদি কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট কোর্স করতে শিক্ষার্থীদের এক লাখ দুই হাজার টাকা ব্যয় করতে হবে। ভর্তির যোগ্যতা উচ্চমাধ্যমিক পাস। আগামী ডিসেম্বর থেকে সরকারি আজিজুল হক কলেজ ক্যাম্পাসে সিএমএ কোর্সে শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম শুরু হবে। যথাযথ নিয়ম মেনেই সিএমএ কোর্স চালুর জন্য সরকারি আজিজুল হক কলেজে ক্যাম্পাস খোলা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।

স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান আইসিএমএবির ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ঢাকাসহ চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, কুমিল্লা ও যশোরে আইসিএমএবির ছয়টি শাখা চালু রয়েছে। নতুন করে বগুড়ায় আরেকটি ক্যাম্পাস চালু হচ্ছে। ঢাকা, রাজশাহীসহ কয়েকটি স্থানে নিজস্ব ভবনে এই ক্যাম্পাস স্থাপন করা হলেও বগুড়ায় খোলা হচ্ছে সরকারি আজিজুল কলেজে।

সংবাদ সম্মেলনে আইসিএমএবির প্রেসিডেন্ট মামুনুর রশিদ বলেন, বহুজাতিক, ব্যবসায় ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের হিসাব বিভাগ, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদন বিভাগসহ নানা প্রতিষ্ঠানে উচ্চপদস্থ পদে সিএমএ ডিগ্রি অর্জনকারীদের চাকরির সুযোগ বাড়ছে। আইসিএমএবি স্থাপনের প্রধান উদ্দেশ্য শিল্প ও কারখানার ব্যবস্থাপনার জন্য মেধাবী ও দক্ষ পেশাজীবী গড়ে তোলা।

কলেজের অধ্যক্ষ শাহজাহান আলী বলেন, শিক্ষার্থীদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে এবং তাদের জন্য ভালো চাকরির সুযোগ তৈরি করতেই সিএমএ কোর্স চালুর জন্য সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

যদিও কলেজের কয়েকজন সাধারণ শিক্ষার্থী বলছেন, বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যেই বাইরের একটি প্রতিষ্ঠানের কোর্স চালু করা হচ্ছে। কলেজের সিংহভাগ শিক্ষার্থীর আর্থিক অবস্থা ভালো নয়। নানা ফি জোগাতে দরিদ্র শিক্ষার্থীদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। তাঁদের পক্ষে লাখ টাকা খরচ করে সিএমএ কোর্সে ভর্তি হওয়া কষ্টসাধ্য।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের বগুড়া জেলা শাখার সভাপতি ধনঞ্জয় বর্মন বলেন, কলেজে শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষের সংকট আছে। সেই সংকট নিরসনের উদ্যোগ না নিয়ে, হল খোলার ব্যবস্থা গ্রহণ না করে, অন্য একটি প্রতিষ্ঠানকে ক্যাম্পাস খোলার অনুমতি দিয়ে কলেজে বাণিজ্যিক কোর্স চালুর চুক্তি করছে। এ সিদ্ধান্ত অন্যায় এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বার্থবিরোধী।