
চট্টগ্রামে সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী ইউনিয়নের বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি (বিএমএ) গেট এলাকায় ঢাকামুখী যাত্রীবাহী চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনের পাওয়ার কারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় কেউ হতাহত না হলেও পুরো ট্রেনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে সাতটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ফায়ার সার্ভিসের লোকজন আসার আগে ট্রেনের অক্ষত বগিগুলো ফৌজদারহাট স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয়।
সীতাকুণ্ড ফায়ার সার্ভিস স্টেশন সাব–অফিসার আহসান হাবিব প্রথম আলোকে বলেন, আজ সকাল সাতটার দিকে চলন্ত অবস্থায় চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনটিতে আগুন লাগার খবর পেয়ে তাঁরা ঘটনাস্থলে যান। সেখানে গিয়ে দেখেন, পাওয়ার কারে (বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী বগি) আগুন জ্বলছিল। তারা দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণ করেন। তাঁরা আসার আগেই ট্রেনের কর্মকর্তা ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় ট্রেনের অক্ষত বগিগুলো বিচ্ছিন্ন করে ফৌজদারহাট স্টেশনে নিয়ে যান। আগুন লাগার কারণ তাৎক্ষণিক জানাতে পারেননি তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা বজলুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ট্রেনের যাত্রীরা আতঙ্কে চিৎকার করছিলেন। তাঁদের চিৎকার শুনে তিনিসহ এলাকার মানুষ ঘটনাস্থলে যান। অনেকে উদ্ধারকাজে সহযোগিতা করেন।
রেল পুলিশের ফৌজদারহাট ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম আজাদ প্রথম আলোকে বলেন, ১৭টি বগি নিয়ে চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনটি সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। সাতটার দিকে ট্রেনটি বিএমএ গেট এলাকায় পৌঁছালে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত বগি ‘চ’–এর সামনে থাকা একটি পাওয়ার কারে আগুন ধরে যায়।
এই কর্মকর্তা বলেন, ট্রেনের এক বয়স্ক যাত্রী ওয়াশরুমে গেলে আগুন দেখতে পান। পরে তিনি অন্যদের বিষয়টি জানানোর পর তাৎক্ষণিক ট্রেনটি থামানোর সংকেত দেওয়া হয়। ট্রেনটি থেমে গেলে যাত্রীরা নেমে পড়েন। এরপর ট্রেনটির আগুন লাগা বগি ও ‘চ’ বগিকে বিচ্ছিন্ন করে ফৌজদারহাট স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয়। চট্টগ্রাম থেকে এ রকম দুটি বগি ফৌজদারহাট স্টেশনে নিয়ে ট্রেনটির সঙ্গে সংযুক্ত করার পর ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে। বর্তমানে বিএমএ গেট এলাকায় ঢাকামুখী লেনে ট্রেন চলাচল বন্ধ আছে। বিকল্পভাবে চট্টগ্রামে লেন দিয়ে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক আছে।