
পাবনার সুজানগর উপজেলায় মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে সুজানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও এক কনস্টেবল আহত হয়েছেন।
আজ বৃহস্পতিবার ভোরে উপজেলা সদরের মথুরাপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের দাবি, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীরা এ হামলায় জড়িত।
আহত দুজন হলেন সুজানগর থানার ওসি মোজাফফর হোসেন ও কনস্টেবল সবুজ হোসেন। তাঁদের স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
সুজানগর থানা–পুলিশের ভাষ্য, বিশ্বকাপ ফুটবল ঘিরে মানুষের জমায়েতের সুযোগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীরা নাশকতার পরিকল্পনা করছেন, এমন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশের দুটি টহল দল মথুরাপুর এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানের সময় কয়েকজনকে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তার আতঙ্কে আমি জেলার বাইরে থাকি। পুলিশের ভয়ে এলাকায় যেতে পারি না। এ অবস্থায় আমি কীভাবে হামলায় থাকলাম? যতটুকু শুনেছি, রাতে খেলা দেখার পর গ্রামের ছেলেরা খিচুড়ি খাওয়ার আয়োজন করেছিল।আবদুল ওহাব, সুজানগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি
পুলিশের দাবি, এরপর মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালান আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীরা। এ সময় হামলাকারীরা পুলিশের দুটি গাড়ি ভাঙচুর করেন এবং আটক ব্যক্তিদের ছিনিয়ে নিয়ে যান। এতে ওসিসহ দুজন আহত হন। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল ওহাবের উপস্থিতিতে এ হামলা চালানো হয় বলে পুলিশের অভিযোগ।
তবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আবদুল ওহাব। তিনি বলেন, ‘গ্রেপ্তার আতঙ্কে আমি জেলার বাইরে থাকি। পুলিশের ভয়ে এলাকায় যেতে পারি না। এ অবস্থায় আমি কীভাবে হামলায় থাকলাম? যতটুকু শুনেছি, রাতে খেলা দেখার পর গ্রামের ছেলেরা খিচুড়ি খাওয়ার আয়োজন করেছিল। পুলিশ গিয়ে ১০ থেকে ১২ জনকে আটক করে। পরে খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন, এমনকি নারীরাও ঘর থেকে বের হয়ে এসে তাঁদের ছাড়িয়ে নেন।’
এ ঘটনায় পুলিশের ওপর হামলা ও সন্ত্রাস দমন আইনের ধারায় পৃথক মামলা প্রক্রিয়াধীন বলে জানান পাবনার পুলিশ সুপার ছুফি উল্লাহ। তিনি বলেন, হামলায় আহত দুই পুলিশ সদস্যকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার কাজ চলছে।