
যশোরে মুক্তেশ্বরী নদী রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন ও পদযাত্রা কর্মসূচি পালিত হয়েছে। সোমবার বিকেল সাড়ে পাঁচটায় শহরতলির পুলেরহাটসংলগ্ন মুক্তেশ্বরী নদীর তীরে মানববন্ধন শেষে পদযাত্রা শুরু হয়ে শহরের দড়াটানা মোড়ে ভৈরব নদের তীরে গিয়ে শেষ হয়।
‘মুক্তেশ্বরী বাঁচাও আন্দোলন’ এই কর্মসূচির আয়োজন করে। পদযাত্রায় নদীপাড়ের বাসিন্দাসহ বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষ অংশ নেন। এ সময় আন্দোলন কমিটির নেতারা মুক্তেশ্বরী নদীর পাড় দখল করে নির্মিত আদ্-দ্বীন সখিনা হাসপাতালের স্থাপনাসহ সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবি জানান। একই সঙ্গে ভৈরবের সঙ্গে মুক্তেশ্বরীর সংযোগ স্থাপন ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসনে উজানে মাথাভাঙ্গা নদীর সঙ্গে ভৈরব নদের সংযোগ স্থাপনের দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ভৈরব নদের শাখা মুক্তেশ্বরী যশোর শহরের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে সদর, মনিরামপুর, কেশবপুর, অভয়নগর ও ডুমুরিয়া উপজেলা অতিক্রম করে সমুদ্রে মিলিত হয়েছে। ভবদহ অঞ্চলের স্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসনের সঙ্গে এই নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত; কিন্তু উজানে ভৈরব নদের সঙ্গে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার সুযোগে আদ্-দ্বীন হাসপাতালসহ বিভিন্ন দখলদার নদীর জায়গা দখল করে প্লট বিক্রি ও বহুতল স্থাপনা নির্মাণ করছে। নদীর পাড়ে কংক্রিটের ঢালাই দিয়ে সীমানা দখল করছে। দুর্নীতির মাধ্যমে নদীর সরকারি সম্পত্তির শ্রেণি পরিবর্তন করে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করা হয়েছে। ক্রমাগত দখল ও ভরাটের কারণে বিল হরিণা এলাকায় শত শত একর জমি দীর্ঘমেয়াদি জলাবদ্ধতায় রূপ নিচ্ছে। দ্রুত দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ ও মুক্তেশ্বরী নদীর প্রাণ ফেরাতে হবে।
মানববন্ধনে মুক্তেশ্বরী বাঁচাও আন্দোলনের উপদেষ্টা ইকবাল কবির বলেন, ‘মুক্তেশ্বরীর বুকে চেপে বসেছে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল। সেবার নামে হাসপাতাল বসিয়ে নদীর মাঝখান পর্যন্ত দখল করেছে। নদীর মাঝখানে কংক্রিটের খুঁটি দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে লোহার পদচারী-সেতু। বছরের পর বছর ধরে নদী দখল হলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি কোনো সরকার। কেউ জমির প্লট বানিয়ে ব্যবসা করছেন। বছরের পর বছর দখলের কারণে এই অঞ্চলে জলাবদ্ধতার শিকার হাজারো মানুষ। এর পরিত্রাণ চান নদীপাড়ের মানুষ। এ জন্য মুক্তেশ্বরী নদীর অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ, নদী পুনঃখনন, উজানে ভৈরব নদের সঙ্গে সংযোগ পুনঃস্থাপন ও দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।’ প্রশাসন নদী রক্ষায় কোনো পদক্ষেপ না নিলে তিনি নতুন কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।
মুক্তেশ্বরী বাঁচাও আন্দোলন, যশোরের আহ্বায়ক অনিল বিশ্বাসের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন সংগঠনের উপদেষ্টা তসলিম-উর-রহমান, জিল্লুর রহমান, আহসান উল্লাহ, আইনজীবী আমিনুর রহমান, আয়োজক সংগঠনের সদস্যসচিব রাশেদ খান প্রমুখ। মানববন্ধন শেষে পুলেরহাট এলাকা থেকে পদযাত্রা বের হয়। পদযাত্রায় অংশগ্রহণকারীরা মুক্তেশ্বরী দখলদারদের বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দেন। পরে চাঁচড়া হয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সড়ক হয়ে দড়াটানা ভৈরব চত্বরে গিয়ে পদযাত্রা শেষ হয়।
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জি বলেন, মুক্তেশ্বরী নদী দখলের তালিকায় আদ্-দ্বীন হাসপাতালও রয়েছে। তাদের অংশে নদীর শূন্য দশমিক ৬১ একর বা ৬১ শতক দখলে রয়েছে। দ্রুত নোটিশ পাঠানো হবে।