
নড়াইল-২ আসনের (সদরের একাংশ ও লোহাগড়া) বিএনপি ও দলের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে নড়াইল সদর উপজেলার তুলারামপুর ইউনিয়নের গাবতলী এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষ পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তুলেছেন।
হাসপাতালে আসা আহত ব্যক্তিদের মধ্যে ৯ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক। তাঁরা হলেন সেলিম মোল্যা, নাজমুল মির, হাবিবুর মোল্যা, সাইফুর মোল্যা, কাদের মোল্যা, হাসান মোল্যা, আরিফ মোল্যা, আমিরন বেগম ও আমেনা বেগম। অন্যদিকে বিএনপি প্রার্থীর আহত পাঁচজন হলেন সাইফুল মোল্যা, রোমান মোল্যা, রাব্বি মোল্যা, ইসমাইল মোল্যা ও ফয়জুর রহমান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তুলারামপুর-গাবতলী এলাকায় একটি দল নড়াইল-২ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ফরিদুজ্জামান ফরহাদের পক্ষে কাজ করেছেন। আরেকটি দল কাজ করেছেন স্বতন্ত্র কলস প্রতীকের প্রার্থী মনিরুল ইসলামের পক্ষে। গতকাল বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে গাবতলী বাজারে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়।
স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক আহত সেলিম মোল্যার অভিযোগ, ‘নির্বাচনে কলসের পক্ষে কাজ করায় আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছেন ধানের শীষের সমর্থকেরা। ওরা হামলা করেছে, আমরা মারতে পারিনি। এখন নিজেরা বাঁচতে আহত হওয়া নাটক সাজিয়েছে।’
তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি প্রার্থীর সমর্থক ফয়জুর রহমান বলেন, ‘আমরা কোনো হামলা করিনি। ধানের শীষের অফিস ভাঙচুর করতে এসেছিল কলসের সমর্থকেরা। এতে বাধা দেওয়ায় আমাদের ওপর হামলা করা হয়েছে। কলসের সমর্থকেরা কীভাবে আহত হয়েছেন, তা জানা নেই।’
দুই পক্ষের সংঘর্ষের পর ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানান নড়াইল সদর থানা-পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওলি মিয়া। তিনি বলেন, বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত আছে। এ ঘটনায় কোনো পক্ষ গতকাল রাত পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ দেয়নি।
স্বতন্ত্র প্রার্থী মনিরুল ইসলাম জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। প্রথম দফায় মনোনয়ন ঘোষণার সময় নড়াইল-২ আসনে তাঁকে মনোনয়ন দিয়েছিল দলটি। পরবর্তীতে মনোনয়ন পরিবর্তন করে জোটের প্রার্থী ফরিদুজ্জামান ফরহাদকে আসনটিতে মনোনয়ন দেওয়া হয়৷ এরপর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিলে মনিরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
ঘোষিত ফলাফলে নড়াইল-২ আসনে জেলা জামায়াতের আমির আতাউর রহমান দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে ১৪৮টি কেন্দ্রে (পোস্টাল ভোটসহ) ১ লাখ ১৮ হাজার ১৪২ ভোট পেয়ে বেসরকারি ফলাফলে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মনিরুল ইসলাম কলস প্রতীকে পেয়েছেন ৭৮ হাজার ৪৫৭টি ভোট এবং বিএনপির ফরিদুজ্জামান ফরহাদ পেয়েছেন ৪৫ হাজার ৪৬৩টি ভোট।