
বর্তমান বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তির যুগে প্রবেশ করেছে। তাই শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহার শেখার পাশাপাশি বই-পত্রিকা পড়া, বিজ্ঞানমনস্কতার চর্চা ও বিতর্কের মাধ্যমে নিজেদের জ্ঞান সমৃদ্ধ করতে হবে। ব্যর্থতায় হতাশ না হয়ে তা থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।
আজ বৃহস্পতিবার কক্সবাজারে ‘শিখো-প্রথম আলো জিপিএ-৫ কৃতী সংবর্ধনা ২০২৬’ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন উপস্থিত বক্তারা। শহরের বায়তুশ শরফ জব্বারিয়া একাডেমি প্রাঙ্গণে কক্সবাজার পর্বের আয়োজন করা হয়েছে। গত ১৩ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম পর্বের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে এ বছরের আয়োজন।
‘স্বপ্ন দেখো, জীবন গড়ো’ স্লোগানে সারা দেশের ৬৪টি জেলায় প্রথম আলোর আয়োজনে ও শিক্ষার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘শিখো’র পৃষ্ঠপোষকতায় শুরু হয়েছে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। কক্সবাজার পর্বে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া ৬৫০ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেছে।
সকালে উৎসব প্রাঙ্গণে ঢুকতেই চোখে পড়ে শিক্ষার্থীদের আড্ডা ও কোলাহল। বন্ধুদের সঙ্গে সেলফি তুলতে ব্যস্ত ছিল জিপিএ-৫ পাওয়া কৃতী শিক্ষার্থী নাফিসা সুলতানা। সে জানায়, এখানে এসে নিজের বন্ধুদের পাশাপাশি আরও অনেকের সঙ্গে পরিচয় হয়েছে। বন্ধুত্বের পাশাপাশি এই আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষাজীবনের শুরুতেই নতুন একটি নেটওয়ার্ক তৈরি হয়েছে।
অনুষ্ঠানস্থলে ঢুকতেই প্রথমে চোখে পড়ে, প্রথম আলো এক্সপেরিয়েন্স সেন্টার। সেখানে শিক্ষার্থীদের জন্য ছিল বিভিন্ন ধরনের খেলার আয়োজন। এর বিপরীতে রয়েছে থ্রি-সিক্সটি ডিগ্রি ফটোবুথ ও ফটো কর্নার। সেখানে এসে শিক্ষার্থীদের ছবি তুলতে দেখা যায়।
সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন প্রথম আলোর কক্সবাজারের নিজস্ব প্রতিবেদক আব্দুল কুদ্দুস। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দেওয়া প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমানের লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।
শিক্ষাবিদ এম এম সিরাজুল ইসলাম বলেন, বর্তমান বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে প্রবেশ করেছে। এই যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে হলে শিক্ষার্থীদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কে জানতে হবে এবং এর ইতিবাচক ব্যবহার শিখতে হবে। তবে প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধও ধারণ করতে হবে।
বায়তুশ শরফ জব্বারিয়া একাডেমি স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক মো. সৈয়দ করিম বলেন, আজকের এই অর্জন ধরে রাখতে হবে। এসএসসির পরবর্তী ১৮ মাসকে গুরুত্ব দিয়ে পড়াশোনা করতে হবে।
অনুষ্ঠানে কৃতী শিক্ষার্থীদের মাদক, মিথ্যা ও মুখস্থ—এ তিন ‘ম’কে না বলার শপথ করান প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আনিসুল হক। তিনি বলেন, ‘তোমরা বই পড়বে, বিজ্ঞানচিন্তা পড়বে, কিশোর আলো পড়বে, বিতর্ক করবে। ভালো মানুষ হবে, বাংলাদেশকে ভালোবাসবে। তোমরা আলোকিত হবে, বাংলাদেশ আলোকিত হবে।’
তিনি শিক্ষার্থীদের ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি এ পি জে আবদুল কালামের গল্প শুনিয়ে বলেন, ‘তিনি জীবনে একসময় ব্যর্থ হয়েছিলেন। তবে ব্যর্থতাকে পেছনে ফেলে তিনি ভারতের সফল একজন বিজ্ঞানী এবং পরবর্তী সময়ে ভারতের রাষ্ট্রপতি হন। এটা আমাদের মাথায় রাখতে হবে, ব্যর্থতাকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যেতে হবে।’
মঞ্চে বক্তব্য দেয় টেকনাফ থেকে আসা কৃতী শিক্ষার্থী মোহাম্মদ রিফাত এবং চকরিয়া থেকে আসা কৃতী শিক্ষার্থী মুনতাকা সোয়াইবা। শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য দেয় ফাতেমা আক্তার। সে জানায়, সমাজের মানুষ অনেক কটূক্তি করবে, কথা শোনাবে। কিন্তু মেয়েদের থেমে থাকা যাবে না। সব বাধা এগিয়ে নারীদের এগিয়ে যেতে হবে।
পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মঞ্চে বক্তব্য দেন শিখোর মেন্টররা। দুপুর ১২টার দিকে সংগীত পরিবেশন করে ব্যান্ডদল ‘আনপ্রিপেয়ার্ড ওয়ার’। এ সময় গানে গানে মেতে ওঠে শিক্ষার্থীরা। এর আগে কুইজে বিজয়ী ১০ কৃতী শিক্ষার্থীর হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আনিসুল হক।
এবারের অনুষ্ঠানটি পাওয়ার্ড বাই বিকাশ। সহযোগিতায় রয়েছে কনকর্ড গ্রুপ, ফ্রেশ, সেভয় আইসক্রিম, কনকা-গ্রী, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি, কোয়ালিটি গ্রুপ, প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি, জিংক বি, অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ শাখা ক্যাম্পাস, আম্বার আইটি লিমিটেড, এটিএন বাংলা এবং প্রথম আলো বন্ধুসভা।