
টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দান ব্যবহারের অনুমতি সাদপন্থীদের না দেওয়ার বিষয়ে সরকারের আগের সিদ্ধান্ত বহাল রাখার দাবি জানিয়েছে ওলামা-মাশায়েখদের একটি পক্ষ। সেই সঙ্গে ২০১৮ ও ২০২৪ সালে টঙ্গীতে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা দুই মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করে অভিযোগপত্র দাখিলের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
আজ শনিবার টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানের টিনশেড পয়েন্টে অনুষ্ঠিত এক পরামর্শ সভায় এসব দাবি জানানো হয়। হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরীর আহ্বানে আয়োজিত এ সভায় ৬৪ জেলার নেতৃস্থানীয় ওলামায়ে কেরাম ও শীর্ষস্থানীয় মুরব্বিরা অংশ নেন।
পরে সংবাদ সম্মেলনে সভার বিস্তারিত তুলে ধরেন তাবলিগ জামাত বাংলাদেশের মিডিয়া সমন্বয়ক হাবিবুল্লাহ রায়হান। তিনি বলেন, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মহল থেকে আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে যোগাযোগ করে সাদপন্থীদের ইজতেমার জন্য টঙ্গী ইজতেমা ময়দান তিন দিন ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে মতামত জানতে চাওয়া হয়েছে। জবাবে তিনি দেশের শীর্ষস্থানীয় ওলামায়ে কেরামের সঙ্গে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত জানানোর কথা বলেছিলেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে এ পরামর্শ সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় উপস্থিত আলেম-ওলামা ও মুরব্বিদের মতামতের ভিত্তিতে সরকারের কাছে দুটি দাবি জানানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। প্রথমত, ২০২৫ সালের পর সাদপন্থীদের টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা ময়দান ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ার বিষয়ে সরকারের পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত বহাল রাখতে হবে। দ্বিতীয়ত, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে টঙ্গীতে সংঘটিত ঘটনায় দায়ের করা দুটি হত্যা মামলার তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন করে অভিযোগপত্র দাখিলের ব্যবস্থা নিতে হবে।
মামলাগুলো বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তাধীন রয়েছে বলে সভায় জানানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে তাবলিগ জামাতের দাওয়াতি কার্যক্রম নিয়ে ২০১৮ সাল থেকে দুটি পক্ষ তৈরি হয়েছে। একটিতে আছেন তাবলিগ জামাতের শীর্ষ মুরব্বি বাংলাদেশের মাওলানা জোবায়ের আহমদ। অন্য পক্ষে আছেন ভারতের মাওলানা সাদ কান্ধলভীর অনুসারীরা। এ পক্ষ সাদ কান্ধলভীকে বিশ্ব তাবলিগ জামায়াতের আমির মনে করে। মাওলানা জোবায়ের আহমদের পক্ষের তাবলিগপন্থীরা সাদকে আমির মানেন না।
গত বছরও টঙ্গীর ময়দানে সাদপন্থীরা ইজতেমা আয়োজন করতে গিয়ে জটিলতায় পড়েছিল। অনুমতি পাচ্ছিল না তারা। শেষ পর্যন্ত কিছু শর্তে তাদের ইজতেমা আয়োজন করতে দেওয়া হয়। এর মধ্যে অন্যতম শর্ত ছিল, মাওলানা সাদের অনুসারীরা ২০২৬ সাল থেকে বিশ্ব ইজতেমা ও তাবলিগি কার্যক্রম টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানে করতে পারবেন না।
ওলামা-মাশায়েখদের আজকের প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, টঙ্গীর ময়দান নিয়ে সাদপন্থীরা সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করলে কিংবা কোনো ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে জেলায় জেলায় কঠোর কর্মসূচি পালন করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস, মাওলানা নুরুল ইসলাম ওলিপুরী, মাওলানা শাহ সাজিদুর রহমান, মাওলানা আব্দুল হামিদ, মাওলানা মাহফুজুল হক, মুফতি খিজিরুল্লাহ হাটহাজারী, মাওলানা ইকরাম হোসাইন ওয়াদুদী, মাওলানা সালাহ উদ্দিন, মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুকসহ দেশের বিভিন্ন জেলার বিশিষ্ট আলেম ও মুরব্বিরা।