
দেশব্যাপী ভয়াবহ লোডশেডিং ও দফায় দফায় বিদ্যুতের দাম বাড়ানো বন্ধের দাবিতে বরিশাল নগরে গণসংহতি আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছেন। আজ সোমবার সকালে সদর রোডের অশ্বিনীকুমার হল চত্বরে এ আয়োজন করা হয়। এ সময় বক্তারা বলেন, সরকারের দুর্নীতির কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সর্বত্র লুটেরা–মাফিয়া গোষ্ঠী গড়ে উঠেছে।
বক্তারা বলেন, বিদ্যুৎ খাতে সরকারের দুর্নীতি ও ভুল নীতির কারণে সারা দেশ আজ ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কবলে পড়েছে। বিদ্যুৎ খাতে সরকারের ভুল নীতির জন্য দেশে আজ জ্বালানিসংকট তৈরি হয়েছে। সরকার তার দল ও বিশেষ গোষ্ঠীর স্বার্থ উদ্ধার করতে ২০১০ সাল থেকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে কোনো দরপত্র ডাকেনি। এর ফলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সর্বত্র লুটেরা–মাফিয়া গোষ্ঠী গড়ে উঠেছে আর এসব লুটপাটের টাকা জোগান দিতে দফায় দফায় বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে জনগণের পকেট কাটছে সরকার।
বক্তারা আরও বলেন, সরকার তাঁর গোষ্ঠীর স্বার্থ উদ্ধারে দায়মুক্তি আইন করে সবাইকে জবাবদিহির বাইরে রেখে সমস্ত লুটপাটকে বৈধতা দিয়েছে। তাই অবিলম্বে এই দায়মুক্তি আইন বাতিল করতে হবে।
গণসংহতি আন্দোলনের জেলা কমিটির সদস্য সাকিবুল ইসলামের সঞ্চালনায় সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন গণসংহতি আন্দোলনের বরিশাল জেলা কমিটির সমন্বয়ক দেওয়ান আবদুর রশিদ। সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন গণসংহতি আন্দোলনের বরিশাল জেলা কমিটির নির্বাহী সমন্বয়কারী আরিফুর রহমান, সহনির্বাহী সমন্বয়কারী জামান কবির, সদস্য জাবের মোহাম্মদ, হাসিব আহমেদ, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন বরিশাল জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক রাইদুল ইসলাম প্রমুখ।
বৈশ্বিক বাজারে সব খাদ্যশস্যের দাম কমলেও বাংলাদেশের বাজারে দাম কমেনি উল্লেখ করে নেতারা আরও বলেন, সরকার জনগণের জন্য মৌলিক চাহিদা খাদ্য সহজলভ্য করতে ব্যর্থ হয়েছে। ক্রমাগত মূল্যস্ফীতি জনজীবনে দুর্বিষহ পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। সরকার মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ না করে সিন্ডিকেটের হাতে আত্মসমর্পণ করেছে। জনজীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে সরকারের কার্যকরী কোনো উদ্যোগ নেই।
সভাপতির বক্তব্যে দেওয়ান আবদুর রশিদ বলেন, ‘সংকট শুধু বিদ্যুৎ, জ্বালানি খাতে সীমাবদ্ধ নেই, দেশের অর্থনীতিতেও রয়েছে। তাই আমাদের সামগ্রিক সংকট উত্তরণে রাজনৈতিক পরিবর্তন আনতে হবে। সরকার ও শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনে ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম গড়ে তুলতে হবে।’