ঝুলন্ত লাশ
ঝুলন্ত লাশ

উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় বাবা–মেয়েকে মারধর, তিন দিন পর মেয়ের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

কলেজে যাতায়াতের পথে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করেছিল নীলা খাতুন (১৬) ও তার পরিবার। এর জেরে নীলার বাবাকে ধরে নিয়ে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয়। তাঁকে ছাড়াতে গেলে নীলা ও তাঁর মাকেও মারধর করা হয়।

ওই ঘটনার তিন দিন পর গতকাল সোমবার সন্ধ্যার দিকে নিজ বাড়ির একটি কক্ষ থেকে নীলার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তাঁর বাবা বাদী হয়ে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেছেন।

নীলা খাতুন সাতক্ষীরার তালা উপজেলার ধুলন্ডা গ্রামের লিটন শেখের মেয়ে। সে উপজেলার মাগুরা আইডিয়াল কলেজের একাদশ শ্রেণিতে পড়ত। আজ মঙ্গলবার বিকেলে ধুলন্ডা গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়েছে।

মামলার এজাহার ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রতিবেশী রকি শেখ (২৪), শোয়েব মালী (১৮) ও ইমন শেখ (২২) কলেজে যাতায়াতের পথে নীলাকে বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব দিতেন। এসব বিষয় নিয়ে নীলার সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দা আমজেত শেখের মেয়ে আকলিমা খাতুনের তর্কাতর্কি হয়। পরে বিষয়টি নীলা তাঁর পরিবারকে জানান। এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় গত শুক্রবার দুপুরে নীলার বাবা লিটন শেখকে ধরে প্রতিবেশী আমজেত শেখের বাড়ির উঠানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে তাঁকে মারধর করা হয়। এ সময় রকি শেখ, শোয়েব মালী, ইমন শেখ, আমজেত শেখ, ইমরান শেখ ও আকলিমা খাতুন সেখানে ছিলেন। লিটন শেখকে ছাড়াতে গেলে নীলা ও তাঁর মাকেও মারধর করা হয়।

গতকাল সন্ধ্যার আগে বাড়ির একটি কক্ষ থেকে নীলাকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে ময়নাতদন্তের জন্য তাঁর লাশ সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

লিটন শেখ গতকাল তালা থানায় সাতজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। মামলায় আমজেত শেখ, রকি শেখ , শোয়েব মালী, ইমন শেখ, ইমরান শেখ, আকলিমা খাতুন ও আকবর শেখকে আসামি করা হয়েছে।

এ সম্পর্কে সহকারী পুলিশ সুপার আক্তারুল ইসলাম (তালা সার্কেল) বলেন, পুলিশ বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নিচ্ছিল। এর মধ্যেই নীলার মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

নীলার বাবা লিটন শেখ আজ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি শুক্রবারই স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে থানায় গিয়েছিলাম। ওসি সাহেবকে সব ঘটনা জানিয়েছিলাম। মামলা লিখতে বলেছিলেন। শেষ পর্যন্ত সত্যিই আমার মেয়েটাকে মেরে ফেলল।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি থানায় মামলা করেছি। বলেছি, আমার মেয়েকে মেরে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। ওরা আমার মেয়েটাকে মেরে ফেলেছে। আমি আমার মেয়ের হত্যার বিচার চাই।’