
নেত্রকোনার কলমাকান্দায় অবৈধভাবে বালু তোলার কারণে ৩৯টি নৌকা ও প্রায় এক হাজার ঘনফুট বালু জব্দ করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় অবৈধভাবে বালু তোলার দায়ে নাজমুল মিয়া (২৪) নামের একজনকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত উপজেলার রংছাতি ইউনিয়নের সতেরহাতী এলাকায় মহাদেও নদে এ অভিযান চালানো হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) সামছুজ্জামান আসিফ।
সাজাপ্রাপ্ত নাজমুল মিয়া উপজেলার নয়ানগর গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের ছেলে। অভিযানকালে অবৈধভাবে তোলা ও পরিবহনের জন্য রাখা প্রায় এক হাজার ঘনফুট বালু জব্দ করা হয়। পরে জব্দ করা বালু নদে ফেলে দেওয়া হয়।
এ ছাড়া বালু পরিবহনে ব্যবহৃত ৩৯টি নৌকার ইঞ্জিন অকেজো করে পানিতে ডুবিয়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে অবৈধভাবে বালু তোলার সঙ্গে জড়িত অজ্ঞাতনামা প্রায় ১০০ জনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করার জন্য কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত (ওসি) কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত ইঞ্জিনচালিত নৌকায় বালু তুলে নদীর তীরসহ বিভিন্ন স্থানে মজুত করা হয়। পরে ট্রলি ও ট্রাকে করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হয়।
কলমাকান্দা থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সাজাপ্রাপ্ত নাজমুল মিয়াকে গতকাল বিকেলে নেত্রকোনা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা মহাদেও নদ থেকে আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত ইঞ্জিনচালিত নৌকায় বালু তুলে নদীর তীরসহ বিভিন্ন স্থানে মজুত করা হয়। পরে ট্রলি ও ট্রাকে করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হয়। অবৈধভাবে বালু তোলার কারণে নদের তীরের বসতবাড়ি, কৃষিজমি, বাজার, সেতু ও বিভিন্ন স্থাপনা হুমকির মুখে পড়ছে।
জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, নদী রক্ষা, পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং সরকারি সম্পদ সংরক্ষণের স্বার্থে মহাদেও নদে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।