পাওয়ার টিলারে করে নির্মাণশ্রমিকেরা কাজ থেকে ফিরতে যানজটে আটকা পড়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল বিশ্বরোড মোড়ে
পাওয়ার টিলারে করে নির্মাণশ্রমিকেরা কাজ থেকে ফিরতে যানজটে আটকা পড়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল বিশ্বরোড মোড়ে

সরাইলে মহাসড়কে ভোগান্তি: ‘সরকার চাইলেই ১–২ মাসে যানজটের সমাধান সম্ভব’

নির্মাণশ্রমিকদের সরদার জয়নাল মিয়া (৫০)। পাওয়ার টিলারে নারী-পুরুষসহ ১৬ জন নির্মাণশ্রমিক যানজটে আটকা পড়েছেন। আনুমানিক ২৫০ মিটার রাস্তা পার হতে তাঁদের সময় লেগেছে ৪০ মিনিট। যানজটের কারণে বেড়েছে পরিবহন ব্যয়, কমেছে সরদারের আয়। তিন দিন ধরে যানজটে তাঁদের মতো হাজারো পথচারী, যাত্রী ও চালক ভোগান্তি পোহাচ্ছেন।

ঢাকা-সিলেট ও কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কে আজ বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটার চিত্র এটি। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে দুই মহাসড়কের প্রায় ১২ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজট দেখা দিয়েছে। গত মঙ্গলবার থেকে আজ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত টানা তৃতীয় দিনের মতো চলছে এই যানজট। সকাল ১০টায় শুরু হওয়া যানজট গত মঙ্গলবার ও বুধবার রাত ১০টা পর্যন্ত ছিল। আজ বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত স্বাভাবিক হয়নি যান চলাচল।

জয়নাল মিয়া সদর উপজেলার সুহিলপুর ইউনিয়নের সুহিলপুর গ্রামের বাসিন্দা। প্রতিদিন পাওয়ার টিলারে করে নির্মাণশ্রমিকদের নিয়ে জেলার নাসিরনগর উপজেলায় যান। তাঁরা সেখানে বিভিন্ন জায়গায় নির্মাণাধীন ভবনে ঢালাইয়ের কাজ করছেন। একজন মিস্ত্রি থেকে দৈনিক গড়ে ৭৫ টাকা ও শ্রমিক থেকে ৫০ টাকা করে পান জয়নাল। ২০ বছর ধরে তিনি এই কাজ করছেন।

যানজটের কারণে ব্যয় বেড়েছে, আয় কমেছে ও শ্রমিক কমেছে বলে জানান জয়নাল মিয়া। তিনি বলেন, ‘বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর সুহিলপুর থেকে সরাইল পর্যন্ত প্রতিদিন ৫-৭ কিলোমিটার পথ সড়কে আটকা থাকতে হয়। সকালে গড়ে এক থেকে দেড় ঘণ্টা এবং বিকেলে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা আটকা পড়ি। আগে কাজে ২০-২২ জন শ্রমিক নিয়ে যেতাম। তিন দিন ধরে ১৬ জন নিয়ে যাচ্ছি। সরকার চাইলেই এক থেকে দুই মাসে যানজটের এই সমস্যার সমাধান সম্ভব। কিন্তু আট বছরেও দুর্ভোগ শেষ হয়নি। আমরা আর সহ্য করতে পারছি না।’

সরু সড়ক ও গর্ত পেরোতে গিয়ে বিশেষ করে পণ্যবাহী যানবাহনকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে সরাইলের কুট্টাপাড়া মোড় এলাকায়

যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার দায়িত্বে নিয়োজিত সরাইল খাঁটিহাতা হাইওয়ে পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) জুয়েল আহমেদ বলেন, ‘সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে সরু রাস্তা। দ্বিতীয়ত, সড়কে কার আগে কে যাবে, সেই প্রতিযোগিতা। চালকদের কেউই আমাদের সংকেত মানছেন না, আইনও মানছেন না।’

বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে বিকেল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত সরেজমিন দেখা গেছে, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সরাইল উপজেলার শান্তিনগর থেকে সরাইল বিশ্বরোড মোড় ও কুট্টাপাড়া হয়ে সরাইলের বারিউড়া পর্যন্ত প্রায় আট কিলোমিটার মহাসড়কে যানজট। এ ছাড়া বিশ্বরোড মোড় থেকে দক্ষিণে সদর উপজেলার নন্দনপুর বিসিক শিল্পনগরী এলাকা পর্যন্ত কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কে প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট। সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই আঞ্চলিক মহাসড়কের এক কিলোমিটার অংশেও যানজট ছড়িয়ে পড়েছে। সরাইল বিশ্বরোড মোড় গোলচত্বরের চারদিকের মধ্যে শুধু ঢাকা থেকে সিলেটগামী অংশের নতুন একটি লেন খোলা রাখা হয়েছে। সিলেট থেকে ঢাকা ও কুমিল্লাগামী পুরোনো দুটি লেন বন্ধ থাকায় যানবাহনের চাপ একটি পথেই পড়ছে। বিশ্বরোড গোলচত্বরের তিন-চতুর্থাংশজুড়ে এখনো নির্মাণকাজ চলছে। সরু সড়ক ও গর্ত পেরোতে পণ্যবাহী যানবাহনকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। গোলচত্বরের তিন পাশে সিএনজিচালিত অটোরিকশার তিনটি অবৈধ স্ট্যান্ডও যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছে। অপরদিকে রয়েছে সড়কে ইজিবাইকের অবাধ বিচরণ।

বিশ্বরোড মোড়ে বড় বড় গর্তের কারণে অল্প রাস্তা পার হতেও আধা ঘণ্টা সময় লাগে বলে অভিযোগ করেন ঢাকাগামী ব্রাহ্মণবাড়িয়া এক্সপ্রেস বাসের চালক মোশারফ হোসেন।

সরু সড়ক, গর্ত ও আইন না মানার প্রবণতার কারণে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে বলে জানান সরাইল খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু তাহের দেওয়ান। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে আমরা দায়িত্ব পালন করছি। ধুলো আর রোদে কাজ করতে গিয়ে হাইওয়ে পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তারপরও আমরা যানজট কমাতে চেষ্টা করে যাচ্ছি।’