নারায়ণগঞ্জ জেলার মানচিত্র
নারায়ণগঞ্জ জেলার মানচিত্র

নারায়ণগঞ্জে ভাবি-ভাতিজিসহ ৫ জনকে কুপিয়ে জখম করলেন যুবক

নারায়ণগঞ্জ শহরের মাসদাইর গাবতলী এলাকায় পারিবারিক বিরোধের জের ধরে ভাবি-ভাতিজিসহ পাঁচজনকে কুপিয়ে জখম করেছেন এক যুবক। এ সময় সাতটি ঘর কুপিয়ে ভাঙচুর করা হয়েছে। সোমবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। আহত ব্যক্তিদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আহত ব্যক্তিরা হলেন শহরের মাসদাইর গাবতলী এলাকার রেনুভা বেগম (৩৫), জেনুফা আক্তার (৩০), লামিয়া আক্তার ওরফে মীম (৬), খাদিজা আক্তার (১৮) ও খোকা মিয়া (৫৩)।

খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে হামলাকারী যুবক মালেককে (২৭) আটক করেছে। এলাকায় তিনি মাদকাসক্ত হিসেবে পরিচিত। এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুব আলম জানান, কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করার ঘটনায় অভিযুক্ত মালেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, সোমবার বিকেলে শহরের মাসদাইর গাবতলী এলাকায় পারিবারিক বিরোধের জের ধরে ভাবি রেনুভা বেগমের সঙ্গে দেবর মালেকের বাগ্‌বিতণ্ডার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে দেবর মালেক ক্ষিপ্ত হয়ে প্রথমে রেনুভা ও তাঁর শিশুকন্যা লামিয়া আক্তারকে (৬) বঁটি দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করেন এবং ঘরের আসবাব ভাঙচুর করেন। এরপর তাঁদের পাশের আরও ছয়টি ঘরে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করেন। তখন বাধা দিলে আরও দুই নারী ও এক বৃদ্ধ প্রতিবেশীকে কুপিয়ে জখম করেন।

আহত খোকা মিয়া জানান, মালেক ঘরের আসবাব ভাঙচুর করে বঁটি দিয়ে তাঁর ভাবি রেনুভা বেগম, ভাতিজি লামিয়াসহ পাঁচজনকে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করেছেন। এ সময় তিনি (খোকা মিয়া) দৌড়ে পাশের মাদ্রাসায় গিয়ে আশ্রয় নিয়ে প্রাণে রক্ষা পান।
আহত খাদিজা আক্তার বলেন, ‘ঘরে শুয়ে ছিলাম। মালেক হঠাৎ ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে আসবাবপত্র ভাঙচুর করতে থাকে। কেন এমন করছে, জিজ্ঞেস করতেই সে আমার হাতে–পিঠে এলোপাতাড়ি কুপিয়েছে।’

বাড়িওয়ালা অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য তোফাজ্জল হোসেন জানান, ‘মালেক তার বড় ভাই, ভাবিসহ পাঁচ–ছয়জনের একটি পরিবার দুই রুম ভাড়া নিয়ে থাকে। তাদের মধ্যে মালেক কোনো কাজকর্ম করে না। শুনছি সে মাদকাসক্ত। পারিবারিক বিষয়ে নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে আমার ভাড়াটে বাড়ির সাতটি রুম কুপিয়ে টেনেহিঁচড়ে দরজা–জানালা টিনের বেড়া ভেঙে ফেলেছে।’