পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে বিএনপি ও জামায়াতের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের পর বাউফল থানা ঘেরাও করেন উপজেলা জামায়াতের নেতা-কর্মীরা। গতকাল রোববার রাতে বাউফল থানার সামনে
পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে বিএনপি ও জামায়াতের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের পর বাউফল থানা ঘেরাও করেন উপজেলা জামায়াতের নেতা-কর্মীরা। গতকাল রোববার রাতে বাউফল থানার সামনে

নির্বাচন ঘিরে সহিংসতা, পটুয়াখালী-২ ও ৩ আসনে নিরাপত্তা জোরদার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে পটুয়াখালী-২ (বাউফল) ও পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনে একাধিকবার সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসন দুটি আসনেই অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করেছে।

গতকাল রোববার পটুয়াখালী-২ আসনের চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে প্রায় ৪০ জন আহত হন। একই দিন চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের জামায়াতের নারী শাখার সভাপতি লিমা জাহান নামের এক অন্তঃসত্ত্বা নারীকে মারধর করা হয়। বিএনপির প্রার্থী সহিদুল আলম তালুকদারের কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ তুলে বিকেলের দিকে উপজেলা শহরে বিক্ষোভ করেন জামায়াতের নেতা-কর্মীরা। বিক্ষোভ চলাকালে বিএনপির এক কর্মী জড়িয়ে পড়লে দ্বিতীয় দফা সংঘর্ষে আরও অন্তত ১০ জন আহত হন। এরপর সন্ধ্যায় বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিদ্দিকুর রহমানের প্রত্যাহার চেয়ে থানা ঘেরাও করেন জামায়াতের নেতা-কর্মীরা।

জানা যায়, জামায়াতের নেতা-কর্মীদের থানা ঘেরাও কর্মসূচিতে উপজেলা শহরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আধিপত্য ধরে রাখতে আশপাশে অবস্থান নেন বিএনপির নেতা-কর্মীরাও। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে সেনাবাহিনী ও পুলিশের কয়েকটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সেনাবাহিনী ও উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে প্রায় তিন ঘণ্টা আলোচনার পর রাত ১০টার দিকে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এরপর আজ সোমবার চন্দ্রদ্বীপে জামায়াতের নারী নেত্রীর ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ হয়েছে।

এর আগে ২ ফেব্রুয়ারি উপজেলা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের উপস্থিতিতে উপজেলা জামায়াত কার্যালয়ে অস্ত্র উদ্ধার অভিযান চালায় পুলিশ। পুলিশের এ অভিযান ব্যর্থ হওয়ার পর জামায়াতের প্রার্থী শফিকুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পুলিশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ তুলে ওই থানার ওসিকে প্রত্যাহারের দাবি জানান। এ ছাড়া ৩০ জানুয়ারি জামায়াতের প্রার্থীর কর্মী মোশারেফ হোসেন হাওলাদার (৫৩) ও তাঁর স্ত্রী মাহামুদা বেগমকে মারধরের অভিযোগ ওঠে বিএনপির প্রার্থীর কর্মীদের বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের ঘটনায় জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে দুই প্রার্থীকে সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়।

বাউফলের ঘটনায় জেলা পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ জানিয়েছেন, সহিংসতা এড়াতে বাউফল আসনে অতিরিক্ত ৬০ থেকে ৭০ জন পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে স্থানীয়ভাবে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়নের অনুমতি চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা। একই সঙ্গে বাউফল উপজেলায় সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি ও আনসার ব্যাটালিয়ন সদস্যদের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

এদিকে পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূর। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে আছেন বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হাসান মামুন, জামায়াতের মুহাম্মদ শাহ আলম ও ইসলামী আন্দোলনের মু. আবু বক্কর সিদ্দিকী।

তফসিল ঘোষণার পর থেকে এ আসনে নুরুল হক নূর ও হাসান মামুনের কর্মী-সমর্থকদের ঘরে অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি কমবেশি প্রায় ১৫ থেকে ২০টি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সহিংসতার ঘটনায় দুই পক্ষ থেকে পাল্টাপাল্টি চারটি মামলা হয়। প্রশাসনের কাছ থেকে কয়েকবার সতর্ক নোটিশ দেওয়ার পরও উভয় দলের উত্তেজনা কমেনি।

গতকাল নুরুল হক নূরের নিজ এলাকা চরবিশ্বাস ও চরকাজল ইউনিয়নে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। অন্যদিকে হাসান মামুনের দশমিনা উপজেলার অন্তর্গত চরবোরহান ইউনিয়নের দুটি ভোটকেন্দ্রের জন্য অতিরিক্ত এক প্লাটুন সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। জেলা রিটার্নিং কার্যালয় সূত্র জানায়, প্রতিটি আসনের জন্য চার প্লাটুন সেনা মোতায়েন করা হলেও পটুয়াখালী-৩ আসনের দুটি উপজেলায় ১০ প্লাটুন সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘নির্বাচন ঘিরে পটুয়াখালী-২ ও পটুয়াখালী-৩ আসনে বেশ কয়েকটি সহিংসতার ঘটনায় উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এ দুটি আসনে নির্বাচনের এই সময়ে নির্ধারিত বাহিনীর পাশাপাশি অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। আমরা এ দুটি আসনের প্রতি বিশেষ নজর রাখছি।’