পরিবারের সবাই হাসপাতালে থাকায় ফাঁকা বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটেছে। সকালে হাসপাতাল থেকে ফিরে জিনিসপত্র ছড়ানো ছিটানো দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। শনিবার সকালে ঘিওরের বাইলজুরী এলাকায়
পরিবারের সবাই হাসপাতালে থাকায় ফাঁকা বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটেছে। সকালে হাসপাতাল থেকে ফিরে জিনিসপত্র ছড়ানো ছিটানো দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। শনিবার সকালে ঘিওরের বাইলজুরী এলাকায়

খাবার খেয়ে পরিবারের সবাই হাসপাতালে, সেই সুযোগে ফাঁকা বাড়িতে চুরি

মানিকগঞ্জের ঘিওরে খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়া পরিবারের সবাই হাসপাতালে থাকার সুযোগে সেই বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের ধারণা, তাঁদের অগোচরে খাবারে চেতনানাশক দ্রব্য মেশায় দুর্বৃত্তরা। এতে সবাই অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে গেলে ফাঁকা বাড়িতে ঢুকে গয়না ও টাকাপয়সা চুরি করে নিয়ে যায়।

গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাতে উপজেলার পয়লা ইউনিয়নের বাইলজুরী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে আজ শনিবার সকালে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। একসঙ্গে বাড়ির সবার অসুস্থতা ও তার সঙ্গে চুরির কোনো যোগসূত্র আছে কি না, খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

অসুস্থ হয়ে পড়ে হাসপাতালে যাওয়া ব্যক্তিরা হলেন বাইলজুরী গ্রামের বাসিন্দা ও দৌলতপুর উপজেলার কল্যাণপুর উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রমজান আলী (৪০), তাঁর মা বেদেনা বেগম (৬২), স্ত্রী জাহানারা আক্তার (৩২) এবং তাঁদের তিন সন্তান রাইয়ান হোসেন (১৪), রিদোয়ান হোসেন (১২) ও মাইশা আক্তার (১১)।

পুলিশ, ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল দুপুরের খাবার খাওয়ার পর শিক্ষক রমজান আলীসহ তাঁর পরিবারের সবাই অসুস্থ হয়ে পড়েন। কেউ কেউ অচেতন হয়ে যান। প্রতিবেশীরা সন্ধ্যায় তাঁদের সবাইকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরিবারের সবাই হাসপাতালে থাকায় রাতে বাড়িটি ফাঁকা ছিল। এ সুযোগে রাতে বাড়িতে ঢুকে চুরি ও লুটপাট চালায় দুর্বৃত্তরা।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, প্রথমে বাড়ির ফটকের তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকে দুর্বৃত্তরা। পরে দুটি ঘরের তালা ভেঙে কাঠ ও স্টিলের আলমারি, ওয়াডরোব, লেপ-তোষকসহ বিভিন্ন জিনিস তছনছ করে। একপর্যায়ে একটি মানিব্যাগ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা নিয়ে যায়। এ ছাড়া প্রায় ৯ ভরি ৬ আনা ওজনের দুই জোড়া রুপার নূপুর এবং তিনটি আংটি চুরি করে নিয়ে যায়।

শিক্ষক রমজান আলী প্রথম আলোকে বলেন, দুর্বৃত্তরা তাদের অগোচরে খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক কোনো দ্রব্য মেশায়। এতে পরিবারের ছয় সদস্য অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে যাওয়ায় বাড়ি ফাঁকা ছিল। সকালে বাড়িতে গিয়ে তাঁরা তালা ভাঙা ও ঘরের মালামাল এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পান। সুস্থ হওয়ার পর তাঁরা সবাই বাড়িতে ফিরেছেন বলে তিনি জানান।

ঘিওর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। পরিবারের ছয় সদস্য কীভাবে অসুস্থ হলেন এবং তাঁদের অসুস্থতার সঙ্গে চুরির ঘটনার কোনো যোগসূত্র আছে কি না, খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।