পর্যটকদের বরণ করতে রিসোর্টে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। মঙ্গলবার দুপুরে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের একটি রিসোর্টে
পর্যটকদের বরণ করতে রিসোর্টে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। মঙ্গলবার দুপুরে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের একটি রিসোর্টে

ঈদের ছুটিতে পর্যটক বরণে প্রস্তুত চায়ের রাজধানী শ্রীমঙ্গল, রিসোর্টগুলোয় আগাম বুকিং

টানা সাত দিনের ঈদুল ফিতরের ছুটি ঘিরে চায়ের রাজধানীখ্যাত শ্রীমঙ্গলে পর্যটকদের ভিড় বাড়ছে। ইতিমধ্যে হোটেল–রিসোর্টগুলোর বেশির ভাগই আগাম বুকিংয়ে পূর্ণ হয়ে গেছে। ঈদের দিন থেকে পুরো ছুটিতে চায়ের রাজধানীখ্যাত এই অঞ্চলে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে টানা এক সপ্তাহের ছুটি। গত মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে এই দীর্ঘ ছুটি। এই ছুটিকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রের মতো শ্রীমঙ্গলেও ভিড় জমাতে শুরু করেছেন ভ্রমণপিপাসুরা। পর্যটকদের বরণে প্রস্তুত চায়ের রাজধানীখ্যাত এই এলাকা। পর্যটকদের জন্য শ্রীমঙ্গলে আছে প্রায় ১০০টি হোটেল ও রিসোর্ট।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, ২০ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত শহরের বাইরের রিসোর্টগুলোর প্রায় ৯০ শতাংশ কক্ষ আগাম বুকিং হয়ে গেছে। শহরের ভেতরের হোটেলগুলোতেও ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ বুকিং সম্পন্ন হয়েছে। ঈদের দিন থেকে অধিকাংশ হোটেল–রিসোর্ট পর্যটকে পূর্ণ থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

শ্রীমঙ্গলের সবুজে ঘেরা সারি সারি চা-বাগান পর্যটকদের মুগ্ধ করে। এ ছাড়া দার্জিলিং টিলা, বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিটিআরআই), চা জাদুঘর, বাংলাদেশ বন্য প্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন, হাইল হাওর, বাইক্কা বিল মৎস্য অভয়াশ্রম, নীলকণ্ঠ সাত রঙের চা কেবিন, চা-কন্যা ভাস্কর্য, বধ্যভূমি-৭১, লাল পাহাড়, শঙ্কর টিলা, গরম টিলা, ভাড়াউড়া লেক, ডিনস্টন সিমেট্রি, হরিণছড়া গলফ মাঠ এবং নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর পল্লিগুলো পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্র। এ ছাড়া পার্শ্ববর্তী কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর লেক ও নুরজাহান চা-বাগানও পর্যটকদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে।

শ্রীমঙ্গলের রাধানগর ও ডলুবাড়ী এলাকায় সবচেয়ে বেশি রিসোর্ট গড়ে উঠেছে। রাধানগরের বালিশিরা রিসোর্টের ব্যবস্থাপক ইয়াছির আরাফাত বলেন, ‘ঈদের ছুটিকে ঘিরে আমাদের রিসোর্টে বুকিং অনেক বেড়েছে। ঈদের দিন থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত প্রায় ৮০ শতাংশ কক্ষ আগাম বুকিং হয়ে গেছে। পর্যটকদের জন্য খাবার, লাইভ বারবিকিউ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন রাখা হয়েছে।’

রিসোর্টের সামনে ঘাস কেটে পরিষ্কার করছেন মালি। মঙ্গলবার দুপুরে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের একটি রিসোর্টে

চামুং রেস্টুরেন্ট ও নিসর্গ নিরব ইকো রিসোর্টের মালিক কাজী সামছুল হক বলেন, ‘রমজানে পর্যটক কম থাকলেও এই সময়টায় আমরা প্রস্তুতি নিয়েছি। এখন ঈদের ছুটিতে আগত পর্যটকদের সর্বোচ্চ সেবা দিতে আমরা প্রস্তুত।’

শ্রীমঙ্গল ট্যুর অপারেটর অ্যান্ড ট্যুর গাইড অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক রাসেল আলম জানান, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতির কারণে কিছু বিদেশি পর্যটক বুকিং বাতিল করেছেন। তবে দেশি পর্যটকদের আগ্রহে সেই ঘাটতি অনেকটাই পূরণ হয়েছে।

শ্রীমঙ্গল পর্যটন সেবা সংস্থার সাধারণ সম্পাদক এস কে দাশ সুমন বলেন, ‘ঈদের দিন থেকে ২৩-২৪ মার্চ পর্যন্ত বেশির ভাগ রিসোর্টই ৮০-৯০ শতাংশের বেশি বুকিং পেয়েছে। অবশিষ্ট কক্ষগুলোও দ্রুত পূর্ণ হয়ে যাবে বলে আশা করছি।’

নিরাপত্তার বিষয়ে ট্যুরিস্ট পুলিশ শ্রীমঙ্গল জোনের পরিদর্শক মো. কামরুল হোসেন চৌধুরী জানান, দীর্ঘ ছুটিতে পর্যটকের চাপ বাড়বে। এ জন্য ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে সমন্বয় সভা হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশ, থানা পুলিশ ও র‍্যাব যৌথভাবে কাজ করবে। পর্যটকেরা যাতে নির্বিঘ্নে ঘুরে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারেন, সে লক্ষ্যে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।