হামে আক্রান্ত বা হামের লক্ষণ নিয়ে ভর্তি শিশুদের জন্য আইসোলেশন ওয়ার্ড করা হয়েছে। সেখানে উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। সোমবার রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতলে
হামে আক্রান্ত বা হামের লক্ষণ নিয়ে ভর্তি শিশুদের জন্য আইসোলেশন ওয়ার্ড করা হয়েছে। সেখানে উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। সোমবার রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতলে

রাজশাহী মেডিকেল

হামে আক্রান্ত ৬৫ শতাংশ শিশুর টিকা নেওয়ার বয়স হয়নি

দেশে হাম প্রতিরোধের জন্য শিশুদের ৯ মাস বয়সে প্রথম টিকা দেওয়া হয়। এবার রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামে আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে ৬৫ শতাংশের বয়স ৯ মাসের কম। ছয় মাসের কাছাকাছি বয়সের শিশুদের সংক্রমণের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সোমবার হামের লক্ষণ নিয়ে আরও ১০ শিশু ভর্তি হয়েছে। গত রোববার পর্যন্ত এ রোগে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা ৯২। সোমবার বিকেল পর্যন্ত এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০২। তিন মাস ধরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামে আক্রান্ত শিশুরা ভর্তি হচ্ছে। এ সময়ের মধ্যে এ হাসপাতালে মোট হামে আক্রান্ত শিশু ভর্তি হয়েছে ২৭০টি।

এদিকে রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মাধ্যমে হাসপাতালের ৬৩টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। তার মধ্যে হাম পজিটিভ রোগী পাওয়া গেছে ৩৪টি। সেই হিসাবে আক্রান্তের হার প্রায় ৫৪ শতাংশ। এর মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ১৬টি, পাবনার ৮টি, রাজশাহীর ৭টি ও নওগাঁর ৩টি। এই হাসপাতালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আসা রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের মধ্যে হামে আক্রান্ত বেশির ভাগ রোগী চাঁপাইনবাবগঞ্জের।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান সাহিদা ইয়াসমিন প্রথম আলোকে বলেন, দেশে হামের প্রথম টিকা দেওয়া হয় ৯ মাস বয়সী শিশুকে। কিন্তু আক্রান্ত শিশুদের ভেতরে দেখা যাচ্ছে, ছয় মাস বয়সী বা তার কম বয়সী শিশুদের আক্রান্তের হার বেশি। তাঁরা হিসাব করে দেখেছেন, হাসপাতালে জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে যত শিশু ভর্তি হয়েছে, তাদের ৬৫ শতাংশই ৯ মাসের কম বয়সী শিশু।

সোমবার রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউর জন্য হামের লক্ষণ নিয়ে অপেক্ষমাণ তালিকায় রয়েছে ১৬টি শিশু, যার মধ্যে ১০ শিশুর বয়স ৯ মাসের কম। সেই হিসাবে ৯ মাসের কম বয়সী শিশুর হার ৬২ দশমিক ৫ শতাংশ, যাদের এখনো হামের প্রথম টিকা নেওয়ার বয়সই হয়নি।

গত শুক্রবার (২৭ মার্চ) ইভা নামের একটি শিশুকে বেসরকারি রোগনির্ণয়কেন্দ্রে কোনো চিকিৎসক না পেয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। শিশুটির বাবা ইলিয়াস হোসেন বলছেন, এর মধ্যে জ্বর তো সারেইনি, বরং গত শনিবার থেকে তাঁর সন্তানের গায়ে হাম উঠেছে। শিশুটির বয়স মাত্র ছয় মাস।

গত শনিবার বিকেলে হাসপাতালের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের বারান্দার ৩ নম্বর বেডে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার বারোরসিয়া গ্রামের শিশু ইয়ানা নামের একটা শিশুকে পাওয়া যায়। তার বাবা মোহাম্মদ ওয়াসিম বলেছিলেন, তিন দিন আগে যখন হাসপাতালে আসেন, তখন তাঁর সন্তানের হামের সমস্যা ছিল না। ঠান্ডা জ্বর নিউমোনিয়ার সমস্যা নিয়ে এসেছিলেন। এখানে আসার পর শিশুটির গায়ে হাম উঠেছে জানিয়ে তিনি বলেন, সন্তানের বয়স ৯ মাস হওয়ার ১ দিন আগেই তাঁরা বাচ্চাকে নিয়ে হাসপাতালে এসেছিলেন। পরদিন তাদের ঠিকানার জন্য ফোন দেওয়া হয়েছিল। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, আক্রান্ত বেশির ভাগ শিশুই ৯ মাসের কম বয়সী।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত শনিবার সন্ধ্যা থেকে আক্রান্ত বা হামের লক্ষণ নিয়ে ভর্তি হওয়া শিশুদের জন্য আইসোলেশন ওয়ার্ড করা হয়েছে। সেখানে ৩০টি বেড রয়েছে, বারান্দায় আরও ৫ জন রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। এ ছাড়া হাসপাতালে ১০ নম্বর ওয়ার্ডে হাম কর্নার খোলা হয়েছে। সেখানেও মোট ১০টি রোগী রাখার ব্যবস্থা রয়েছে।