ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আসা রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন ডেপুটি স্পিকার। গতকাল শুক্রবার
ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আসা রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন ডেপুটি স্পিকার। গতকাল শুক্রবার

ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বেশি রোগী দেখে ডেপুটি স্পিকার বললেন, ‘কী যে জাদু করেছেন আপনারা’

ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার মান উন্নয়নে হাসপাতালের চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, সুশীল সমাজসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মত বিনিময় করেন। এরপর বের হয়ে হাসপাতালের প্রধান ফটকের পাশের একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগীর অস্বাভাবিক ভিড় দেখতে পান। তখন তিনি ওই চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রবেশ করেন। ঘটনাটি গতকাল শুক্রবার বিকেলের।

সেখানে উপস্থিত ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লোকজন ও চেম্বারে বসা চিকিৎসকের উদ্দেশে ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘হাসপাতালের চেয়ে রোগী বেশি আপনাদের চেম্বারে—কী যে জাদু করেছেন আপনারা।’ তখন ওই বেসরকারি সেবাকেন্দ্রে উপস্থিত বেশ কয়েকজন রোগীর সঙ্গে কথা বলে জানতে পারেন সরকারি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় সেবা পাওয়া যায় না। হাসপাতালে গেলে চিকিৎসকেরা বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা দেন, কিন্তু সেগুলোর বেশির ভাগই বাইরে করতে হয়। পরীক্ষার রিপোর্ট পেতে দেরি হওয়ায় হাসপাতালের সময় শেষ হয়ে যায়। পরে আবারও ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা ভিজিট দিয়ে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসা নিতে হয়। তাই বাধ্য হয়ে রোগীরা বাইরে ক্লিনিকে সেবা নিতে যান। এতে তাদের প্রচুর টাকা খরচ হয়।

ষাটোর্ধ্ব এক নারী জানান, তিনি পেটের ব্যথা নিয়ে কয়েক দিন ধরে ভুগছেন। হাসপাতালে গিয়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাননি। তাই বাধ্য হয়ে এই ক্লিনিকে এসেছেন। চিকিৎসক তাঁকে রোগ নির্ণয়ের জন্য কয়েকটি পরীক্ষা দিয়েছেন। এই পরীক্ষাগুলো করাতে তাঁর প্রায় দেড় হাজার টাকা খরচ হয়েছে। অথচ হাসপাতালে সরকারিভাবে পরীক্ষাগুলো করালে বড়জোর ৩০০ টাকা খরচ হতো। ওই নারী অভিযোগ করে বলেন, ‘নিরুপায় হয়ে ধারদেনা করে বাইরের ডায়াগনস্টিকে চিকিৎসা করাতে এসেছি। সরকারি হাসপাতালের তুলনায় বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে তুলনামূলক ভালো চিকিৎসা পাওয়া যায়।’

এ সময় ডেপুটি স্পিকার উষ্মা প্রকাশ করে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে বলেন, এসব অভিযোগ যেন তাঁকে আর না শুনতে হয়। সরকারি হাসপাতালে যেন রোগীরা প্রয়োজনীয় রোগের চিকিৎসাসেবা পান। কোনো রোগীকে যেন বাইরে ক্লিনিকে গিয়ে চিকিৎসা না করাতে হয়।

রোগীদের উদ্দেশে ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দক্ষ চিকিৎসক ও আধুনিক যন্ত্রপাতি রয়েছে। সেখানে বিনামূল্যে ওষুধ দেওয়া হয় এবং চিকিৎসা নিতে কোনো ফি লাগে না। আপনারা হাসপাতালে যদি চিকিৎসাসেবা না পান বা সেবা নিতে গিয়ে আপনাদের কোনো অভিযোগ থাকে তবে সরাসরি আমাকে জানাবেন। আমার ফোন সব সময় খোলা থাকে। প্রয়োজনীয় কাজে সঙ্গে সঙ্গে ফোন ধরতে না পারলেও আমি ফোন ব্যাক করে আপনাদের কাছ থেকে জেনে নেব।’

কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. আল মামুন বলেন, ‘হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্সসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আন্তরিকভাবে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছেন। আমরা চেষ্টা করছি রোগীরা যেন তাঁদের চিকিৎসাসেবাটা যথাযথভাবে পান। অনেক রোগীই বাইরে ক্লিনিকে গিয়ে অহেতুক টাকা খরচ করেন। হাসপাতালে প্রায় সব রোগেরই পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। শুধু এক্স-রে সেবাটা দেওয়া যাচ্ছে না। এই যন্ত্রটি সচল থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে রেডিওগ্রাফার না থাকায় এক্স-রে সেবা বন্ধ রয়েছে।’