সৌদি প্রবাসী শাকিল মিয়ার লাশ দেখতে স্বজন ও পাড়া প্রতিবেশীদের ভিড়। শনিবার সকালে সরকারি উদ্যোগে তাঁর মরদেহ নিজ বাড়ি কিশোরগঞ্জ সদরের মারিয়া ইউনিয়নের পূর্ব কাতিয়ারচর এলাকায় পৌছায়
সৌদি প্রবাসী শাকিল মিয়ার লাশ দেখতে স্বজন ও পাড়া প্রতিবেশীদের ভিড়। শনিবার সকালে সরকারি উদ্যোগে তাঁর মরদেহ নিজ বাড়ি কিশোরগঞ্জ সদরের মারিয়া ইউনিয়নের পূর্ব কাতিয়ারচর এলাকায় পৌছায়

সৌদি আরবের জেল থেকে মুক্তি পেতে চেয়েছিলেন শাকিল, ফিরলেন নিথর দেহে

সৌদি আরবে মারা যাওয়ার ২৮ দিন পর কিশোরগঞ্জের এক প্রবাসী তরুণের মরদেহ বাড়ি আনা হয়েছে। আজ শনিবার সকালে সরকারি উদ্যোগে তাঁর মরদেহ কিশোরগঞ্জ সদরের মারিয়া ইউনিয়নের পূর্ব কাতিয়ারচর এলাকায় আনা হয়। এ সময় বাড়িতে শোকের ছায়া নেমে আসে। ওই তরুণের নাম শাকিল মিয়া (২৮), তিনি সৌদি আরবের কারাগারে বন্দি ছিলেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গতকাল শুক্রবার রাত ১২টার দিকে সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে শাকিলের মরদেহ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। পরে আজ সকালে মরদেহটি কিশোরগঞ্জের নিজ বাড়িতে আনা হয়।

শাকিল মিয়া

নিহত যুবকের চাচা বকুল মিয়া জানান, অভাব-অনটনের সংসারের হাল ধরতে ২০১৯ সালে ঋণ করে ঢাকার বনানী এলাকার আলতাব রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে সৌদি আরবে যান শাকিল। সেখানে নিয়োগকর্তার সঙ্গে কাজের অনুমতিপত্র (ইকামা)–সংক্রান্ত জটিলতার কারণে তিনি কর্মস্থল ত্যাগ করেন। পরে অবৈধভাবে কাজ করতে গিয়ে সৌদি পুলিশের হাতে আটক হন এবং কারাগারে পাঠানো হয় তাঁকে। কারাগার থেকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে দেশে ফেরার জন্য জামিন করাতে প্রায় দুই লাখ টাকা প্রয়োজন বলে শাকিল জানান। পরে তাঁর বাবা আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে টাকার ব্যবস্থা করে পাঠান।

পরিবারের সদস্যরা জানান, কারাগারে থাকা অবস্থায় শাকিল শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন। ফোনে তিনি তাঁর মা ও স্বজনদের জানান, তিনি খুব কষ্টে আছেন। শরীর শুকিয়ে গেছে। জেলের খাবার খেতে পারেন না। তাঁকে যেন দ্রুত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। এর মধ্যে ১৫ মে কারাগারে থাকা অবস্থায় একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র (এসি) বিস্ফোরিত হয়ে ধোঁয়া সৃষ্টি হলে শাকিল শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হন। সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে দাবি স্বজনদের।

শাকিলের বাবা ওমর ফারুক কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘সংসারের অভাব ঘোচাতে ঋণ করে ছেলেকে বিদেশ পাঠিয়েছিলাম; কিন্তু আমার ছেলের কপালে বিদেশ সইল না। যেতে হলো কারাগারে। কত কষ্টই না করে ছেলে আমার মারা গেছে। মৃত্যুর ১০ দিন আগে তাঁদের সঙ্গে শেষবার কথা হয়েছিল। তখন শাকিল জামিন ও আইনি প্রক্রিয়ার জন্য অর্থের প্রয়োজনের কথা জানিয়েছিল। ঋণ করে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা সৌদিতে আইনজীবীর কাছে পাঠানো হয়েছিল; কিন্তু ছেলে আর রইল না।’

ওমর ফারুক আরও বলেন, ‘সৌদি আরব থেকে ছেলের মরদেহ আনতে প্রায় আট হাজার সৌদি রিয়ালের দরকার ছিল; কিন্তু আমাদের কাছে ছেলের মরদেহ আনতে কোনো টাকাপয়সা ছিল না। পরে বিষয়টি জানার পর কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব-কুলিয়ারচর) আসনের সংসদ সদস্য, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম ছেলের মরদেহ বাংলাদেশে আনার উদ্যোগ নেন। তাঁর সহযোগিতায় সরকারি উদ্যোগে মরা ছেলের চেহারা আমাদের দেখার সুযোগ হয়েছে। এই ছেলেই ছিল আমার সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম। এখন কীভাবে সংসার চলবে বলতে পারছি না।’