গ্রেপ্তার আসামি জয়নাল আবেদীন গাইন। শনিবার বিকেলে খুলনার হরিণটানা থানায়
গ্রেপ্তার আসামি জয়নাল আবেদীন গাইন। শনিবার বিকেলে খুলনার হরিণটানা থানায়

২০০ টাকার দেনা নিয়ে বিরোধে দিনমজুরকে খুন, আসামি গ্রেপ্তার

খুলনার হরিণটানা থানার কৈয়াবাজার এলাকায় মসজিদের বারান্দা থেকে দিনমজুর মো. ডালিম গাজীর (৪৫) রক্তাক্ত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় আসামি জয়নাল আবেদীন গাইনকে (৩৭) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গত ২৪ মে ভোরে খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের পাশে জয়খালী উত্তরপাড়া বায়তুল মা’মুর জামে মসজিদের বারান্দায় স্থানীয় লোকজন রক্তাক্ত অবস্থায় ডালিম গাজীর লাশ দেখতে পান। পরে পুলিশ তাঁর লাশ উদ্ধার করে। ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা একটি ইট জব্দ করা হয়। ওই দিন নিহত ব্যক্তির পরিবার হরিণটানা থানায় মামলা করে।

শনিবার বেলা দুইটার দিকে কৈয়াবাজার বিধান সড়কের অস্থায়ী ডে-লেবার হাট এলাকা থেকে সিসিটিভি ফুটেজ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আসামি জয়নাল আবেদীনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার চম্পাফুল ইউনিয়নের জগদীশকাঠি গ্রামের বাসিন্দা। নিহত ডালিম গাজী কয়রা উপজেলার মহেশ্বরীপুর এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর থেকে জয়নাল আবেদীন পলাতক ছিলেন। গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন।

হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ডালিম গাজী হত্যার ঘটনায় থানার একাধিক দল গোপন তথ্যের ভিত্তিতে কাজ করছিল। ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি স্বীকার করেছেন, নিহত ডালিম গাজীর সঙ্গে ২০০ টাকা ধার নেওয়া নিয়ে বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। ঘটনার দিন আনুমানিক রাত চারটার দিকে মসজিদের পাশে ঘুমন্ত ডালিম গাজীর মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করা হয়। পরে তাঁর লুঙ্গির কোঁচড়ে থাকা চার হাজার টাকা নিয়ে আসামি ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

ওসি জানান, দীর্ঘ সময় আসামি নিজ বাড়িতে আত্মগোপনে ছিলেন বলে স্বীকার করেছেন। ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।